জামায়াতের ৭৭ জেলা ও মহানগরে নতুন আমির ঘোষণা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার
জামায়াতের ৭৭ জেলা ও মহানগরে নতুন আমির ঘোষণা
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ২০২৭–২০২৮ সাংগঠনিক কার্যকালের জন্য দেশের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নতুন আমিরদের নাম ঘোষণা করেছে। দলটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সদস্যদের গোপন ব্যালটে দেওয়া প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে এসব নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে বলে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা আগামী দুই বছর নিজ নিজ সাংগঠনিক ইউনিটের নেতৃত্ব দেবেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নির্বাচিত আমিরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁদের নাম ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক নেতৃত্বে নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি এগিয়ে গেল।

দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রুকনদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোয় জেলা ও মহানগর আমিররা স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ দলটির স্থানীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলবে।

ঢাকা মহানগরীর দুই অংশে নতুন আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির হয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণের আমির নির্বাচিত হয়েছেন নূরুল ইসলাম বুলবুল। মহানগর পর্যায়ে চট্টগ্রামে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, রাজশাহীতে ডা. মো. জাহাঙ্গীর, খুলনায় অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং সিলেটে মো. ফখরুল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন। বরিশালে অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, রংপুরে এ টি এম আজম খান এবং বগুড়ায় আবদুল মালেক মহানগর আমির নির্বাচিত হয়েছেন।

নতুন নেতৃত্বের তালিকায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা স্থান পেয়েছেন। অঞ্চলভেদে দায়িত্ব বণ্টনের এই ঘোষণায় বড় শহর, জেলা সদর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারিত হলো।

ঘোষিত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব শাখায় নতুন মুখ আসেননি। কয়েকটি জেলা ও মহানগরে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে, অন্যদিকে অনেক সাংগঠনিক ইউনিটে আগের আমিররাই আবার দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০টি জেলা ও চারটি মহানগর শাখায় আমির পদে পরিবর্তন এসেছে। বাকি শাখাগুলোতে আগের দায়িত্বশীলদের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নতুন মেয়াদের নেতৃত্ব কাঠামোয় অভিজ্ঞদের ধারাবাহিকতা এবং নতুন দায়িত্বশীলদের অন্তর্ভুক্তি—দুই প্রবণতাই রয়েছে।

রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে পঞ্চগড়ে অধ্যাপক মো. ইকবাল হোসাইন, ঠাকুরগাঁওয়ে মোহাম্মদ আলমগীর, দিনাজপুরে ড. মুহাদ্দিস এনামুল হক, নীলফামারীতে অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুস সাত্তার, লালমনিরহাটে অ্যাডভোকেট আবু তাহের, রংপুরে মাওলানা এনামুল হক, কুড়িগ্রামে অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার এবং গাইবান্ধায় মো. আবদুল করিম সরকার দায়িত্ব পেয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের এই জেলাগুলোতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

রাজশাহী বিভাগের আট জেলায়ও নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। জয়পুরহাটে মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, বগুড়ায় মাওলানা আবদুল হক সরকার, সিরাজগঞ্জে মাওলানা মো. শাহিনুর আলম, পাবনায় অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাওলানা মো. আবুজর গিফারী, নওগাঁয় মাওলানা মাহফুজুর রহমান, রাজশাহীতে অধ্যাপক আবদুল খালেক এবং নাটোরে ড. মীর নুরুল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন। এসব জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম সমন্বয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে তাঁদের ওপর।

খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতেও নতুন মেয়াদের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। মেহেরপুরে মাওলানা মো. তাজউদ্দীন খান, কুষ্টিয়ায় অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন, চুয়াডাঙ্গায় অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন, ঝিনাইদহে মাওলানা আবদুল আউয়াল, যশোরে অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল, মাগুরায় অধ্যাপক সাঈদ আহমদ, নড়াইলে অ্যাডভোকেট মো. আতাউর রহমান বাচ্চু, বাগেরহাটে মাওলানা রেজাউল করিম, খুলনায় অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরায় অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম আমির নির্বাচিত হয়েছেন।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় বরগুনায় মাওলানা মো. মহিবুল্লাহ, পটুয়াখালীতে অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, ভোলায় মাস্টার মু. জাকির হোসেন, বরিশালে ড. মাহফুজুর রহমান, ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান এবং পিরোজপুরে আব্দুর রব দায়িত্ব পেয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগের তিন জেলায় শেরপুরে মাওলানা হাফিজুর রহমান, ময়মনসিংহে মো. আবদুল করিম এবং নেত্রকোণায় ছাদেক আহমাদ হারিছ নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা বিভাগের ১৩টি সাংগঠনিক জেলায়ও আমিরদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জে মাওলানা আজিজুল হক, টাঙ্গাইলে আহসান হাবিব মাসুদ, মানিকগঞ্জে হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম, গাজীপুরে মাওলানা সেফাউল হক, মুন্সীগঞ্জে মাওলানা আ. জ. ম. রুহুল কুদ্দুস, ঢাকায় মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এবং নারায়ণগঞ্জে মাসুদুর রহমান গিয়াস দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ছাড়া নরসিংদীতে ইব্রাহিম ভূঁইয়া, রাজবাড়ীতে হাসমত আলী, ফরিদপুরে ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ, গোপালগঞ্জে অধ্যাপক রেজাউল করিম, মাদারীপুরে মাওলানা মোখলিসুর রহমান এবং শরীয়তপুরে মাওলানা আবদুর রব হাশেমী নির্বাচিত হয়েছেন।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় সুনামগঞ্জে অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন, সিলেটে মাওলানা হাবিবুর রহমান, মৌলভীবাজারে ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী এবং হবিগঞ্জে মাওলানা কাজী মোখলিছুর রহমান দায়িত্ব পেয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাওলানা মুহা. মোবারক হোসাইন, কুমিল্লা উত্তরে অধ্যাপক মো. আবদুল মতিন, কুমিল্লা দক্ষিণে অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, চাঁদপুরে মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজী, ফেনীতে মুফতি আবদুল হান্নান, নোয়াখালীতে মো. ইসহাক খন্দকার এবং লক্ষ্মীপুরে এ আর হাফিজুল্লাহ দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তরে আলাউদ্দিন শিকদার, চট্টগ্রাম দক্ষিণে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজারে অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, খাগড়াছড়িতে মিনহাজুর রহমান, রাঙামাটিতে অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আলীম এবং বান্দরবানে এস এম আবদুছ ছালাম আজাদ নির্বাচিত হয়েছেন।

জেলা ও মহানগর পর্যায়ের আমিররা সাধারণত স্থানীয় সংগঠনের নেতৃত্ব, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচালনা, সভা-সমাবেশ সমন্বয় এবং দলীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও তাঁদের দায়িত্বের অংশ। ফলে নতুন মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচন শুধু পদবণ্টনের বিষয় নয়; এটি দলটির স্থানীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের আগামী দুই বছরের দিকনির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত।

গোপন ব্যালটে রুকনদের ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি দলটির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। এই প্রক্রিয়ায় সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়েছে বলে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের সামনে এখন নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সংগঠন জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে স্থানীয় জনগণের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। স্থানীয় সমস্যা, জনসম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক বিস্তারের ক্ষেত্রে এসব ইউনিটের ভূমিকা থাকে। সে বিবেচনায় জামায়াতের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নতুন মেয়াদের নেতৃত্ব দলটির সামগ্রিক সাংগঠনিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রাখবে।

নতুন আমিরদের দায়িত্বকাল শুরু হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে দায়িত্ব হস্তান্তর, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম সাজানোর বিষয়গুলো সামনে আসবে। নির্বাচিত নেতাদের জন্য আগামী দুই বছর হবে নিজ নিজ এলাকায় সংগঠন পরিচালনা, সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা বিস্তৃত হয়, সেটিও তাঁদের নেতৃত্বের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০২৭–২০২৮ সাংগঠনিক কার্যকালের জন্য ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার আমিরদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃত্বের নতুন মেয়াদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কয়েকটি ইউনিটে নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আগের দায়িত্বশীলদের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের সমন্বিত চিত্র সামনে এসেছে। এখন নির্বাচিত আমিরদের দায়িত্ব গ্রহণ এবং আগামী দুই বছরে তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের দিকেই নজর থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com