ইরানের সাত শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার
ইরানের সাত শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান এবং নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে সাত দফা শর্তসহ একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে তাদের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যথায় আলোচনার টেবিলে বসতে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি নয় ইরান।

দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকা এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সামরিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানোর ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছানো হয়েছে এবং ওয়াশিংটন সেটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয় কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

ইরানের এই উদ্যোগের গুরুত্ব শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথের নিরাপত্তা। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য দুই পক্ষকে একাধিক জটিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরের সময় সাতটি শর্তের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেও বসবে না তেহরান। তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আগে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমঝোতা নিশ্চিত করতে চাইছে।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে সাতটি শর্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বাকি শর্তগুলো কী এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য তেহরান কী ধরনের সময়সীমা প্রত্যাশা করছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইরানের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির জ্বালানি রপ্তানি, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কার্যক্রম, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নানা বাধার মুখে রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার প্রভাব দেশটির অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও পড়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতা থাকায় ইরানের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি তেহরানের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা, পুনর্গঠন এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের দাবি তুলে তেহরান সংঘাতের দায় ও পরিণতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

তবে ওয়াশিংটনের অবস্থানও কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইরানের প্রস্তাবটি দেখেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরান কিছুই করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা বিবেচনা করলেও পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো ছাড় দিতে আগ্রহী নয়।

এখানেই দুই দেশের অবস্থানের মৌলিক পার্থক্য। ইরান চাইছে, আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সুস্পষ্ট সমঝোতা তৈরি করতে। ফলে কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাব আদান-প্রদান হলেও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য এই পথ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। ফলে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।

এই বাস্তবতায় ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষকেরা।

এরই মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সীমিত থাকায় দোহা দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। কাতারের সঙ্গে উভয় পক্ষের যোগাযোগের সুযোগ থাকায় দেশটি কূটনৈতিক সমঝোতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। এর আগে দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়েছে। সেখানেও যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল।

কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সামরিক সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি।

অন্যদিকে ইরানও সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা হামলা শুরু করে। ইসরায়েলের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

পরবর্তী সময়ে লেবাননেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের লড়াই শুরু হয়। এর ফলে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সংঘাতের বিস্তৃতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনকেও ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানঘনিষ্ঠ হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে কাতারের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব কূটনৈতিক সমাধানের একটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই মতপার্থক্য যেন নতুন সামরিক সংঘাতে রূপ না নেয়। কারণ যুদ্ধের প্রভাব শুধু রাষ্ট্রীয় সীমান্ত বা সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকে না; সাধারণ মানুষ, ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও এর মূল্য দিতে হয়। কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন তেহরানের সাত দফা শর্তের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশ শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে পারে কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com