হাসিনার বিরুদ্ধে নাহিদ ইসলামের অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার
নিউইয়র্কে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলায় পদত্যাগ দাবি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলার অন্যতম সাক্ষী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি আদালতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তার আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম স্থগিত করে আজকের দিনে অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্য বিশিষ্ট বিচারিক প্যানেল কার্যক্রম শুরু করবে।

সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে নাহিদ ইসলাম অবশিষ্ট সাক্ষ্য দেবেন। এরপর শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন তাকে জেরা করবেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে বিচারিক প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ পর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করা হতে পারে।

অন্যদিকে বুধবার সকাল পৌনে ১১টা থেকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী। তিনি এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে আলোচিত। ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে তার জেরা কার্যক্রম চলে। এর আগে আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ৪৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং এটি ছিল সাক্ষ্যগ্রহণের ১৮তম দিন।

মামলার অন্যতম আলোচিত সাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গত ২ সেপ্টেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন। তিনি আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়ে আদালতের সামনে উপস্থিত হয়ে জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। জেরা চলাকালীন তিনি নিজের ভূমিকার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এছাড়াও তিনি আদালতে এমন কিছু তথ্য উপস্থাপন করেন যা আগে প্রকাশ পায়নি। এ সাক্ষ্য মামলার অগ্রগতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়কার ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা আদালতে বেদনাদায়ক বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে গুলি, অগ্নিসংযোগ, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং হত্যাযজ্ঞের বিভীষিকাময় কাহিনি। অনেকেই এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা, কামাল এবং আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ উপস্থাপন করে। অভিযোগপত্রটি ছিল প্রায় আট হাজার সাতশত সাতচল্লিশ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে দুই হাজার আঠারো পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র, চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ এবং দুই হাজার সাতশ চব্বিশ পৃষ্ঠা শহীদ পরিবারের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত। মামলায় মোট ৮১ জন সাক্ষী তালিকাভুক্ত আছেন। গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেয়।

এ মামলাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল একে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছে, অন্যদিকে সরকারপন্থি অংশ বলছে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তবে আন্তর্জাতিক মহল থেকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তারা বলছে, এই মামলার রায়ের মাধ্যমে দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, নাহিদ ইসলামের অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ মামলার বিচার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করবে। আজকের শুনানি শেষে আদালত যদি সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে তবে এটি মামলার রায় প্রক্রিয়ার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হবে। বাংলাদেশের জনগণ এখন গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই বহুল আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায়ের জন্য। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুধু আসামিদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং বাংলাদেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত