জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সোমবার সকালে বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত মিস দাশো কারমা হামু দর্জিকে এক সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে স্বাগত জানান। সাক্ষাৎটি সকাল ৯টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে উভয় পক্ষের মধ্যে আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

সাক্ষাতকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের কাউন্সিলর মি. জিগড্রেল ওয়াই শেরিং। উভয় পক্ষের আলোচনায় মূলত বাংলাদেশ ও ভুটানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। বিশেষ করে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সামাজিক উন্নয়ন ও দুদেশের মধ্যে শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, পাশাপাশি আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান। উপস্থিত উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা একমত পোষণ করেন যে, বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে ইতিমধ্যেই সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে নিয়মিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সাক্ষাতের সময় উভয় পক্ষ উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভুটানের রাষ্ট্রদূত মিস দাশো কারমা হামু দর্জি বলেন, “ভুটান বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং আমরা উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত।”

ডা. শফিকুর রহমান বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভুটানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তিনি উভয় দেশের মধ্যে শিক্ষা, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, “দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে।”

সাক্ষাত শেষে উভয় পক্ষ পুনরায় একে অপরের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করেন। বৈঠকের সমাপ্তিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভুটানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহু দিক থেকে উভয় দেশের জন্য সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমাদের নিয়মিত আলোচনা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।”

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষের প্রতিনিধিরা বলেন, উভয় দেশের মধ্যে শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হবে। তারা মনে করেন, এই ধরনের সাক্ষাৎ ও আলোচনার মাধ্যমে কেবল রাজনীতি বা অর্থনীতি নয়, দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও শক্তিশালী হয়।

এছাড়াও আলোচনায় ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাণিজ্যিক উদ্যোগ, বিনিয়োগ, ভুটান থেকে প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা, কৃষি ও পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সহযোগিতার দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে। দু’পক্ষই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, এই ধরনের সহযোগিতা কেবল দুই দেশের অর্থনীতি নয়, উভয় দেশের জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই সৌজন্য সাক্ষাত বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরণের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

সাক্ষাত শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী মাসগুলোতে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এই সাক্ষাৎটি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভুটানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

সর্বশেষে, উভয় পক্ষ পুনরায় একে অপরের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বৈঠক শেষ করেন এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও সংযোগ বৃদ্ধি করতে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ভবিষ্যতে উভয় দেশের জন্য সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে, যা কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত