বার্সেলোনাকে হারিয়ে পিএসজির ইতিহাস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৮ বার
বার্সেলোনাকে হারিয়ে পিএসজির ইতিহাস

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আবারও ইতিহাস গড়লো ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় এক জয়ে এনরিকের শিষ্যরা শুধু গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টই নিশ্চিত করেনি, বরং ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনার মাঠে টানা তৃতীয়বার জয়ের রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে। এভাবেই প্রতিপক্ষের দুর্গ ভাঙতে ভাঙতে নতুন অধ্যায় রচনা করল পিএসজি।

ম্যাচের শুরু থেকেই ন্যু ক্যাম্পে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল বার্সেলোনা তাদের আক্রমণাত্মক খেলার ধারা অব্যাহত রাখবে। সত্যিই তাই হয়েছে। ১৯তম মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস। এই গোলে তিনি টানা ৪৫ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়ে আলোচনায় চলে আসেন। বার্সেলোনার সমর্থকদের উচ্ছ্বাস তখন আকাশছোঁয়া। তবে খেলার গতি বদলে দিতে খুব বেশি সময় নেয়নি পিএসজি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ১৯ বছর বয়সী সেনি মাইউলু দারুণ দক্ষতায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। তার গোলটি শুধু পিএসজিকে ফের প্রাণশক্তি দেয়নি, বরং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের নামও উজ্জ্বলভাবে লিখিয়ে নিলেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই মরিয়া হয়ে ওঠে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি কাউন্টার অ্যাটাক দর্শকদের নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখছিল। বার্সেলোনা তাদের প্রথাগত টিকিটাকা ফুটবল খেললেও পিএসজি সঠিক সময়ে সঠিক প্রতিআক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। শেষ পর্যন্ত খেলার যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় গনকালো রামোস গোল করে পিএসজিকে নাটকীয় জয় এনে দেন। এই গোলের পর ন্যু ক্যাম্পে নীরবতা নেমে আসে, আর দূর থেকে আসা পিএসজি সমর্থকদের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

তবে এই ম্যাচে দুই দলই বেশ কয়েকজন তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামে। বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া, গাভি, ফেরমিন লোপেজ ও রাফিনিয়া ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না। অন্যদিকে, পিএসজির শিবিরেও ছিল অনুপস্থিতির ছায়া। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মারকিনিয়োস, ডিজিরে দুয়ে, খিচা কাভারাস্কেইয়া এবং উসমান দেম্বেলেকে ছাড়াই মাঠে নামে তারা। তবে দুই দলেরই তরুণ ও রিজার্ভ খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা ম্যাচটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।

এই জয়ের ফলে পিএসজি কেবল গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় এগিয়েই গেল না, বরং ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখল। এর আগে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় কোনো ক্লাবই বার্সেলোনার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে তিনবার জিততে পারেনি। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, লুইস এনরিকের অধীনে পিএসজি এখন নতুন করে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে। বিশেষ করে মেসির বিদায়ের পর অনেকে ভেবেছিল দলে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেবে, কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেদের নতুন করে গুছিয়ে নিচ্ছে।

ম্যাচের পর লুইস এনরিক বলেন, “আমরা জানতাম, বার্সেলোনার মাঠে খেলতে নামা কখনোই সহজ হবে না। কিন্তু খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস রেখেছে যে আমরা জিততে পারি। রামোসের গোলটা আমাদের ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের ফল।”

অন্যদিকে, বার্সেলোনার কোচ জাভি হার্নান্দেজ ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমরা শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিলাম এবং খেলার নিয়ন্ত্রণও ছিল আমাদের হাতে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারায় আমরা শাস্তি পেয়েছি। এ ধরনের ভুল আর চলবে না।”

এদিকে একই রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্য ম্যাচেও নাটকীয় দৃশ্যের জন্ম হয়। ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি মোনাকোর বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে। ম্যাচে জোড়া গোল করে আলোচনায় ছিলেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড। প্রথমার্ধের ১৫ এবং ৪৪ মিনিটে দুটি দুর্দান্ত গোল করে তিনি ম্যাচে সিটির আধিপত্য নিশ্চিত করেছিলেন। মাঝখানে ১৮ মিনিটে জর্ডান টেজে একটি গোল শোধ দিলেও মনে হচ্ছিল সিটি ম্যাচটি জিতবেই। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ড্রামা সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে এরিক ডায়ার স্পট কিক থেকে গোল করে মোনাকোকে সমতায় ফেরান। ফলে জয় হাতছাড়া হয়ে যায় সিটির।

এই ম্যাচ শেষে সমালোচনা শুরু হয়েছে সিটির রক্ষণভাগ নিয়ে। অনেকেই বলছেন, হাল্যান্ডের গোল সত্ত্বেও দল যে জয় ধরে রাখতে পারছে না, তা দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতার স্পষ্ট প্রমাণ। অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা অবশ্য আশাবাদী যে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির জয় শুধুমাত্র একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং তাদের মানসিক দৃঢ়তারও প্রতীক। বার্সেলোনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে তাদেরই মাঠে হারানো নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। এর মাধ্যমে পিএসজি দেখিয়ে দিল তারা ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম সেরা ক্লাব হওয়ার পথে আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ রাখছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মানেই নাটকীয়তা, গোলের রোমাঞ্চ এবং শেষ মুহূর্তের চমক। এবারের আসরে বার্সেলোনা বনাম পিএসজির লড়াই সেই সত্যকেই আবারও প্রমাণ করল। ন্যু ক্যাম্পের গ্যালারিতে হতাশার ছায়া থাকলেও পিএসজির ইতিহাস গড়া জয়ে ফুটবল বিশ্ব আবারও পেল এক নতুন রোমাঞ্চকর অধ্যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com