‘আজও শ্রমিকদের মুক্তি আসেনি’ -জাতীয় শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১৬ বার
জাতীয় শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

“শ্রমিকের জীবনের কোনো মূল্য এই রাষ্ট্রে নেই,” — এমন ক্ষোভের সুরে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আজও শ্রমিকদের মুক্তি আসেনি। তারা এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মর্যাদার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। গার্মেন্টসে আগুন লাগে, বস্তিতে আগুন লাগে, কলকারখানায় আগুন লাগে—তবুও শ্রমিকের জীবনের দাম নির্ধারিত হয় দুই-তিন লাখ টাকায়। যেন শ্রমিক কেবলই অর্থনীতির চাকার এক যান্ত্রিক অংশ, মানুষ নয়।”

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনসিপির শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলামের মতে, শ্রমিকের শ্রম শুধু উৎপাদনের শক্তি নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল চালিকাশক্তি। তাই শ্রমিকের সম্মান, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে উন্নত হতে পারে না।

তিনি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেকগুলো কমিশন গঠিত হয়েছে—শ্রম কমিশন, স্বাস্থ্য কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনসহ নানা কাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত শ্রমিক বা সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এই কমিশনগুলো নিয়ে কোনো আলোচনাই হচ্ছে না। অথচ নির্বাচনকেন্দ্রিক ছয়টি সংস্কার কমিশন নিয়ে বড় আয়োজন ও ঐকমত্যের নামে প্রচারণা চলছে।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, “যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে কথা বলার কথা, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো কেবল নির্বাচনী সমঝোতার বাইরে কোনো আলোচনা করছে না। গণতন্ত্রের নামে এসব উদ্যোগের ভেতরে আমি কোনো আন্তরিক উদ্দেশ্য দেখতে পাই না।”

তিনি বলেন, “এই রাষ্ট্রে শ্রমিকরা শুধু পরিসংখ্যানের সংখ্যা হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে মারা গেলে একবার শিরোনাম হয়, তারপর তার পরিবারের ভাগ্যে জোটে সামান্য ক্ষতিপূরণ। কিন্তু তাদের সন্তান, তাদের ভবিষ্যৎ—সেসব নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো দায় নেই।”

অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতা জানান, নতুন শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’ দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় এক ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এর নেতৃত্বে থাকছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাজহারুল ইসলাম ফকির, যিনি সংগঠনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রমিকনেতা রিয়াজ মোর্শেদ এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আরমান হোসেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা শ্রমিকদের মর্যাদা ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় নতুন পথচলা শুরু করছি। এই সংগঠন হবে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর, যারা রাষ্ট্রের ভেতরে সমান মর্যাদার নাগরিক হতে চায়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com