২০২৪ ছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া: শফিকুর রহমান

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকায় এক সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটিকে সামনে আসা চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জেগে উঠেছিলেন, তারা সবাই মারা যাননি কিংবা ঘুমিয়েও পড়েননি। তারা এখনো সজাগ দৃষ্টিতে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিনি বলেন, মূল লড়াইয়ের আগে একটি সেনাবাহিনী গঠন করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং মহড়া দিতে হয়। একইভাবে ২০২৪ সালকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এটি ছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া।

জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়া এই ‘ভাইরাসে’ যে কেউ আক্রান্ত হলে ফ্যাসিস্টে পরিণত হতে পারে।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে বলে তারা দেখতে পাচ্ছেন। তিনি সরকারকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে দেবে না। সরকার ভালো কাজ করলে বিরোধী দলের দায়িত্ব হবে সহযোগিতা ও সমর্থন করা। তবে সরকার অন্যায় করলে, মানুষের অধিকার কেড়ে নিলে কিংবা ভুল পথে পরিচালিত হলে বিরোধী দলকে অবশ্যই তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে হবে।

দেশের ভাবমূর্তি ও নাগরিকদের মর্যাদা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি দেশের অবস্থান মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো তার ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি দেশের ভাবমূর্তি তার জনগণের চরিত্রের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

দেশে বারবার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমতায় আসা কোনো সরকারই পুরোপুরি এই চর্চা থেকে বের হতে পারেনি।

নাগরিকদের ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দেশকে খুশি করতে অতীতের বহু নির্যাতন ও রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি ওই জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সেমিনারে রাষ্ট্র সংস্কার, নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়। শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত