বদলগাছীতে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার
বদলগাছীতে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের একটি ঘর ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রায়হান গিটারকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে মথুরাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সুজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে। রোববার বিকেলে উপজেলার গোঁবরচাপা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে গিটারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন সুজাউল ইসলামকে মারধর করলে তিনিও আহত হন।

গুরুতর আহত আবু রায়হান গিটারকে প্রথমে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর বুকের ক্ষত গভীর এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানান। প্রয়োজনীয় পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও উন্নত চিকিৎসার সুবিধা না থাকায় পরে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় একটি ঘর ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, গোঁবরচাপা মোড়ে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের একটি ঘর কে বা কারা ব্যবহার করবে, তা নিয়ে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। রোববার বিকেলে সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলে একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজাউল ইসলাম ওই ঘরটি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবহার করছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর লোকজনের বিরোধ তৈরি হয়। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যেও পার্থক্য রয়েছে।

মারামারির একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রায়হান গিটার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যান বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থামানোর চেষ্টা করার সময় সুজাউল ইসলাম তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তাঁর বুকের অংশে গুরুতর জখম হয়।

আবু রায়হান গিটার বলেন, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের ঘর ব্যবহার করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল চলছিল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় একপর্যায়ে সুজাউল ইসলাম তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন বলে তাঁর অভিযোগ।

হামলার সময় গিটারকে রক্ষা করতে গিয়ে শাহীন নামে আরও এক যুবক আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন সুজাউল ইসলামকে মারধর করেন। এতে তিনিও আহত হন। পরে তাঁকে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত সুজাউল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ছেলে সিয়ামের দাবি, তাঁর বাবা প্রায় চার বছর ধরে গোঁবরচাপা মোড়ে ট্রাক শ্রমিকদের একটি ঘর ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি আবু রায়হান গিটারের লোকজন তাঁর বাবাকে ওই ঘর ব্যবহার করতে বাধা দিচ্ছিলেন। ঘরটিতে আওয়ামী লীগের লোকজন বসেন বলেও তিনি দাবি করেন। এ নিয়ে রোববার বিকেলে মারামারি হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই পক্ষের বক্তব্যে ঘর ব্যবহার নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এলেও হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কারা প্রথমে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল, তা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। ফলে কোনো পক্ষের অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান নাহিদ জানান, আবু রায়হান গিটারের বুকের ক্ষত বেশ গভীর ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাঁর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের আঘাতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে উন্নত কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে বদলগাছী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ঘটনার সময় পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, ঘটনাটি এখনো প্রাথমিক তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর হামলার প্রকৃতি, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পেছনের বিরোধের বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে কোনো বিরোধ জড়িয়ে গেলে তার প্রভাব দ্রুত সামাজিক পরিবেশেও পড়তে পারে। গোঁবরচাপা মোড়ের ঘটনাটিও সেই কারণে স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি ঘরের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে ছুরিকাঘাত ও পাল্টা মারধরের ঘটনায় গড়াল, সেটিই এখন এলাকার মানুষের মধ্যে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ঘটনায় আবু রায়হান গিটার গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা চান, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অভিযুক্ত সুজাউল ইসলাম মথুরাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান এবং বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে এই ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ঘটনাটি একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ও সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়টিও সামনে এনেছে। রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত হামলা কিংবা সংঘর্ষের ঘটনা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধের ওপরও। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ কোনো স্থানে এমন ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।

এখন ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বদলগাছীর মানুষ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে লিখিত অভিযোগ দায়ের, আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না—এসবের ওপর নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি।

গোঁবরচাপা মোড়ের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বিরোধের ফল, নাকি দীর্ঘদিনের স্থানীয় কোনো দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত—তা তদন্তেই পরিষ্কার হবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, একটি সাধারণ বিরোধ সহিংসতায় রূপ নিয়ে কয়েকজনকে আহত করেছে। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি যাতে আর না তৈরি হয়, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত