প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সকালের শুরুতে ২–৩টি তুলসীপাতা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যবহারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যচর্চায়ও দীর্ঘদিন ধরে তুলসী ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তুলসীর পাতায় ইউজেনল, রোজম্যারিনিক অ্যাসিড ও উরসোলিক অ্যাসিডের মতো বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যেগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহনাশক ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে কয়েকটি তুলসীপাতা খেলেই নির্দিষ্ট কোনো রোগ প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়—এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।
তুলসীপাতার সম্ভাব্য উপকার নিয়ে গবেষণায় কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অনেক গবেষণায় সরাসরি তাজা পাতা নয়, তুলসীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গবেষণার ফলাফলকে সকালে ২–৩টি পাতা খাওয়ার সঙ্গে সরাসরি মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না।
মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে তুলসী। দীর্ঘদিন ধরে তুলসীকে অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিছু গবেষণায় তুলসীর নির্যাস গ্রহণের সঙ্গে মানসিক চাপ কমা এবং ঘুমের মান উন্নত হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে তাজা কয়েকটি পাতা খেলে একই ধরনের প্রভাব নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায় কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সর্দি-কাশি বা গলার অস্বস্তিতেও তুলসীর প্রচলিত ব্যবহার রয়েছে। তুলসীর কিছু উপাদানের প্রদাহনাশক ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য থাকায় সামান্য গলা বা শ্বাসনালির অস্বস্তিতে এটি কিছুটা আরাম দিতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হলে শুধু তুলসীর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
হজমের ক্ষেত্রেও তুলসী সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। তুলসী দিয়ে তৈরি গরম পানীয় খাওয়ার প্রচলন বহু পুরোনো। তবে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বদহজম বা অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে তুলসী ব্যবহার করা উচিত নয়।
তুলসীপাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তুলসীর উদ্ভিজ্জ যৌগ সামগ্রিক স্বাস্থ্যে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ধারণা পাওয়া গেছে।
রক্তে শর্করা, এলডিএল কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও প্রদাহের ক্ষেত্রেও তুলসীর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এসব গবেষণার অনেকগুলোতেই নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের ওষুধের বিকল্প হিসেবে তুলসীপাতা ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
মুখের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও তুলসীর কিছু উপাদানের জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে শুধু তুলসীপাতা চিবিয়ে দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন হলে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
তুলসীপাতা খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। তবে এর স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করা ঠিক নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প হিসেবে তুলসীকে দেখা উচিত নয়।