সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে ডিজিটাল নজরদারি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পরিপত্রও জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে উপস্থিতি রেকর্ডের পাশাপাশি জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী নির্ধারিত কর্মস্থলে অবস্থান করছেন কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে।

এতে শুধু হাজিরা নিশ্চিত করাই নয়, দায়িত্ব পালনের সঙ্গে কর্মীদের বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির মতো প্রশাসনিক বিষয়গুলোকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোর কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ভালো কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা এবং সেবার মানে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে হবে।

সরকারি হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ আদায় হলে নগদ লেনদেনের সুযোগ কমবে এবং হাসপাতালের রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের হিসাব আরও সহজে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অর্থ কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে কেবিন ভাড়া পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তনের কারণে দরিদ্র রোগীদের ওপর যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে নিজস্ব রাজস্ব থেকে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কিছু উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত, চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যবহার এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য পাওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে কোথাও অনিয়ম বা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারি হাসপাতালের সেবাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনা এবং রোগীদের জন্য সেবার মান উন্নত করা। তবে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করতে নিয়মিত নজরদারি, সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত