আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য নিয়েছে জামায়াত: রাশেদ খান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ বার
আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য নিয়েছে জামায়াত: রাশেদ খান

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির বর্তমানে এমন একটি রাজনৈতিক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তারা আওয়ামী লীগের মতোই পেশিশক্তি ও ভিন্নমত দমনের প্রবণতা দেখাচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক ভূমিকা পালনের পরিবর্তে জামায়াত-শিবির এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে তাদের রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কুষ্টিয়ায় গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘাত এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা উঠে আসে।

রাশেদ খান বলেন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, জামায়াত ও ছাত্রশিবির একটি ‘জালিম সংগঠনে’ পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এর পর আবার দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পেশিশক্তির প্রদর্শন করা হয়েছে। এসব ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রাশেদ খান বলেন, অতীতে দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলোকে সাধারণত মজলুম ও অপেক্ষাকৃত বিনয়ী অবস্থানে দেখা যেত। কিন্তু তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে এসে জামায়াত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের জন্য পর্যাপ্ত রাজনৈতিক পরিসর নাও থাকতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য মূলত জামায়াতের রাজনৈতিক আচরণ ও বিরোধী মতের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে।

তবে রাশেদ খানের এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের সময়ে কোনো পাল্টা বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক সংঘাত ও বিভিন্ন দলের পারস্পরিক অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

কুষ্টিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশেদ খান গণ-অধিকার পরিষদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানানো উচিত। বিশেষভাবে দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনটিকে জামায়াতমুখী করার চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

রাশেদ খান দাবি করেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও দলটির পক্ষ থেকে গণ-অধিকার পরিষদকে নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা আপত্তিকর। তিনি ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং গণ-অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে নিজের সমর্থন প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ও গণ-অধিকার পরিষদের সম্পর্ক এবং অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জোট নিয়েও দলগুলোর অবস্থান পরিবর্তন ও পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এ অবস্থায় এক দলের নেতার অন্য দলের বিরুদ্ধে করা মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।

রাশেদ খান তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামে গণ-অধিকার পরিষদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও রাজপথের সংগ্রামে গণ-অধিকার পরিষদের অবদান জামায়াতের তুলনায় বেশি।

তিনি বলেন, একসময় জামায়াত রাজনৈতিকভাবে আড়ালে বা গোপন অবস্থানে ছিল, তখন গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসেছে যে, জামায়াত নিজেদের আন্দোলনের অবদানকে বেশি করে তুলে ধরছে। কিন্তু অতীতের ঘটনাপ্রবাহ ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

রাশেদ খানের বক্তব্যে মূলত দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমত, জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর সমালোচনা এবং দ্বিতীয়ত, গণ-অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি তাঁর সমর্থন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যতে ক্ষমতার রাজনীতিতে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে বিভিন্ন দলের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, জোট, বিরোধ এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। ফলে এক দলের নেতার বক্তব্যকে ঘিরে অন্য দলের প্রতিক্রিয়া এবং পাল্টা বক্তব্য রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য যেন সহিংসতা, পেশিশক্তির প্রদর্শন বা ভিন্নমত দমনের দিকে না যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী মতকে কতটা জায়গা দিচ্ছে এবং সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মোকাবিলা করছে কি না, তা তাদের গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম মাপকাঠি।

রাশেদ খানের অভিযোগগুলো তাই শুধু একটি দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে নয়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বিরোধী মতের পরিসর, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার কাঠামো নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে গণ-অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টাও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সব পক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি। কুষ্টিয়ার ঘটনাসহ যেসব সংঘাতের কথা তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত পরিস্থিতি, দায় এবং কারণ নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাশেদ খানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী, গণ-অধিকার পরিষদ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক ও প্রতিযোগিতা সামনে আরও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে কোন দল কোন অবস্থান নেবে, কার সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা করবে এবং ভিন্নমতের প্রতি দলগুলোর আচরণ কেমন হবে—এসব প্রশ্নই রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত