প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রিমিয়াম স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরা, প্রসেসর, ডিসপ্লে কিংবা ব্যাটারির পাশাপাশি সফটওয়্যার আপডেটের বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা আপডেট পাওয়া গেলে একটি ফোন বাজারে আসার কয়েক বছর পরও নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্টের ক্ষেত্রে অ্যাপলের আইফোন ও গুগলের পিক্সেল—দুই ব্র্যান্ডই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে আপডেট দেওয়ার নীতি ও সময়সীমার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।
পিক্সেল ৮ সিরিজ থেকে গুগল সাত বছরের সফটওয়্যার সাপোর্ট নীতি চালু করেছে। এই নীতির আওতায় নির্দিষ্ট পিক্সেল ডিভাইস প্রথম বাজারে আসার সময় থেকে সাত বছর পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা আপডেট পাওয়ার কথা।
যারা একটি স্মার্টফোন ছয় বা সাত বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য এটি বড় সুবিধা। ফোন কেনার সময় থেকেই ব্যবহারকারী জানতে পারেন, কত বছর পর্যন্ত ডিভাইসটির জন্য আনুষ্ঠানিক সফটওয়্যার সাপোর্ট থাকবে।
উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালে বাজারে আসা পিক্সেল ১০-এর ক্ষেত্রে সাত বছরের নীতি অনুযায়ী ২০৩২ সালের আগস্ট পর্যন্ত আপডেট পাওয়ার কথা। ফলে দীর্ঘ সময় একই ফোন ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে পিক্সেলকে আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
অ্যাপল সাধারণত গুগলের মতো নির্দিষ্ট করে সাত বছরের iOS আপডেটের প্রতিশ্রুতি দেয় না। তবে পুরোনো আইফোনে দীর্ঘ সময় ধরে নতুন iOS সংস্করণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ভালো রেকর্ড রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইফোন ১৭-সংক্রান্ত অ্যাপলের নথিতে সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা আপডেটের ন্যূনতম পাঁচ বছরের সময়সীমার কথা উল্লেখ রয়েছে। বাস্তবে অ্যাপলের অনেক পুরোনো আইফোনই পাঁচ বছরের পরও বড় iOS আপডেট পেয়েছে।
তাই শুধু ঘোষিত ন্যূনতম সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে আইফোন ও পিক্সেলের সফটওয়্যার সাপোর্ট তুলনা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। অ্যাপলের বাস্তব রেকর্ডও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
একটি ফোন কতদিন কার্যকর থাকবে, তা শুধু সফটওয়্যার আপডেটের ওপর নির্ভর করে না। ডিভাইসের প্রসেসর, র্যাম, ব্যাটারি এবং নতুন সফটওয়্যার চালানোর সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো ফোন নিয়মিত নিরাপত্তা আপডেট পেলেও নতুন অ্যাপ, গেম কিংবা এআইভিত্তিক ফিচার ব্যবহারের সময় পুরোনো হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
আইফোন ১৭-এ রয়েছে অ্যাপলের A19 চিপ। অন্যদিকে পিক্সেল ১০-এ ব্যবহার করা হয়েছে গুগলের Tensor G5 প্রসেসর। বিভিন্ন বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় আইফোন ১৭-এর পারফরম্যান্স পিক্সেল ১০-এর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
তবে বেঞ্চমার্ক স্কোর দিয়ে বাস্তব ব্যবহারের পুরো অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা যায় না। Tensor চিপে গুগল মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপলের নিজস্ব চিপ সাধারণ পারফরম্যান্স ও শক্তি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।
স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই ক্ষেত্রে পিক্সেল ডিভাইসে গুগলের বড় সুবিধা হলো Gemini AI এবং কোম্পানির বিভিন্ন সেবার সঙ্গে গভীর সমন্বয়।
Gmail, Maps, Chromeসহ গুগলের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে এআই প্রযুক্তির সংযুক্তি পিক্সেল ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে স্মার্টফোনে এআইয়ের ব্যবহার আরও বাড়লে এই ইন্টিগ্রেশন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে দীর্ঘ সফটওয়্যার সাপোর্ট মানেই নতুন সব ফিচার পাওয়া—এমন নয়। অনেক এআই ফিচারের জন্য নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে কোনো পুরোনো পিক্সেল ডিভাইস অ্যান্ড্রয়েড ও নিরাপত্তা আপডেট পেলেও নতুন কিছু এআই সুবিধা কেবল পরবর্তী প্রজন্মের ডিভাইসে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
যারা দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্টের বিষয়ে স্পষ্ট ও লিখিত নিশ্চয়তা চান, তাদের কাছে পিক্সেলের সাত বছরের প্রতিশ্রুতি বড় সুবিধা।
অন্যদিকে আইফোনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাত বছরের প্রতিশ্রুতি না থাকলেও পুরোনো ডিভাইসে দীর্ঘদিন iOS আপডেট দেওয়ার রেকর্ড অ্যাপলের অন্যতম শক্তি। শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের কারণে পুরোনো আইফোনও দীর্ঘ সময় ব্যবহারযোগ্য থাকে।
যারা তিন-চার বছর পরপর স্মার্টফোন পরিবর্তন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। কিন্তু একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন ছয় বা সাত বছর ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে গুগলের সাত বছরের আপডেট নীতি পিক্সেলকে বাড়তি সুবিধা দেয়।
সব মিলিয়ে, নির্দিষ্ট সফটওয়্যার সাপোর্টের নিশ্চয়তার দিক থেকে পিক্সেল এগিয়ে। আর দীর্ঘদিনের আপডেট রেকর্ড, শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ও পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে আইফোনও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর অগ্রাধিকারের ওপর—দীর্ঘমেয়াদি আপডেটের লিখিত নিশ্চয়তা চাইলে পিক্সেল, আর দীর্ঘদিনের সফটওয়্যার সাপোর্ট রেকর্ড ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিলে আইফোন হতে পারে বেশি উপযোগী।