৮০ টাকার নিচে নেই সবজি, চড়া দামে দেশি মাছ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। সবজির বেশির ভাগই বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার আশপাশে বা তার বেশি দামে। একই সঙ্গে দেশি মাছের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল, ডাল, সবজি ও মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে স্বস্তি নেই। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

সবজির বাজারে বাড়তি চাপ

রাজধানীর বাজারগুলোতে অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজির মধ্যে। টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ২৫০ টাকা এবং ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজিতে।

এ ছাড়া পটল, বেগুন, উচ্ছে, বরবটি, করলা ও কচুর লতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং চালকুমড়া ও শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী ও টাউনহল বাজারের ক্রেতারা জানান, কয়েক ধরনের সবজি একসঙ্গে কিনলেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাছ-মাংসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পরিমাণ কমাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে আয়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। ফলে মাসের শুরুতেই বাজারের বড় একটি অংশের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং মাসের শেষদিকে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য বাদ দিতে হচ্ছে।

দেশি মাছের দাম যেন নাগালের বাইরে

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, শোল, চিতল ও বোয়ালের মতো মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ চড়া।

বাজারে এসব দেশি মাছের দাম প্রায় ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছে। এমনকি ছোট কাচকি মাছও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি মাছের পরিবর্তে চাষের মাছ কিনতে গেলেও খুব একটা স্বস্তি নেই। বাজারে পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ৩০০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।

ক্রেতাদের মতে, মাছের বাজারের এই দাম মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটেও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অনেকেই দেশি মাছের পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামের চাষের মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

কেন বাড়ছে দাম?

বিক্রেতাদের দাবি, আড়ত থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, বাজার ব্যবস্থাপনার খরচ এবং পণ্য নষ্ট হওয়ার ক্ষতি যুক্ত হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে।

মাছ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জলাশয়ে দেশি মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কমেছে। অন্যদিকে চাষের মাছ উৎপাদনে খাদ্য, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে চাষের মাছের দামও আগের তুলনায় বেশি।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, শুধু উৎপাদন বা পরিবহন ব্যয় দিয়ে বাজারের সব মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত মুনাফার কারণেও দাম বাড়ছে বলে তাদের ধারণা।

নজরদারি বাড়ানোর দাবি

দ্রব্যমূল্যের চাপ কমাতে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা ও বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শুধু খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করলে দীর্ঘমেয়াদে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন, পাইকারি বিক্রি ও খুচরা বিপণন—পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি, অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বাজারে কার্যকর তদারকি বাড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এমন পর্যায়ে আনা হবে, যাতে সীমিত আয়ের মানুষও প্রয়োজনীয় খাবার ও সবজি নিয়মিত কিনতে পারেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত