প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টানা তিন দফা দাম বাড়ার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমেছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন ও কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে।
স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
এর আগে সর্বশেষ ১৩ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ১ হাজার ১৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।
নতুন দর কার্যকর হওয়ার ফলে এক দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমেছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১০৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। ফলে চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে দামের ঘন ঘন ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।