সর্বশেষ :
ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে অনিয়ম: জালিয়াতি আর দালাল চক্রে ডুবছে সড়ক নিরাপত্তা আমদানি করা ১ লাখ ৭৫ হাজার টন মার্কিন গম চট্টগ্রাম বন্দরে জৈন্তাপুর ও জাফলংয়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ নিয়োগ প্রশ্নফাঁসে বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিসি ব্যাংক

দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫০ বার
দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ এই পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন যে, তার রাজনৈতিক জীবনের একটি অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ও শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের খুব দ্রুতই পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। বিগত বছরগুলোতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এবং দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে অত্যন্ত সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ছাত্রদলের আগামীর নেতৃত্বকে স্বাগত জানানোর মানসিকতা তৈরি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, খুব শীঘ্রই সংগঠনের নতুন কমিটি গঠিত হতে যাচ্ছে এবং সেই নতুন কমিটিকে দলের স্বার্থে সকলের সাদরে গ্রহণ করা উচিত। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রদত্ত একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন, যা মুহূর্তেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
নিজের দীর্ঘ নেতৃত্বকালের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ছাত্রদল সভাপতি তার স্ট্যাটাসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের বিভিন্ন শীর্ষ নেতার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। শুধু কেন্দ্রীয় নেতাই নন, বরং ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষনেতারা যারা বিভিন্ন সময়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি। কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্যাগী নেতাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি কলেজ এবং চারটি মহানগরের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কঠোর পরিশ্রম ও মেধার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, এই নেতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং রাজপথের সাহসী ভূমিকার ফলেই কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে এবং তারা যেকোনো ষড়যন্ত্র অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।
নেতাকর্মীদের সততা ও আদর্শের কথা উল্লেখ করে ছাত্রদল সভাপতি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন যে, কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের প্রতিটি নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি আমৃত্যু গর্ববোধ করবেন। তার দৃঢ় দাবি ছিল যে, এই দীর্ঘ দায়িত্ব পালনকালে তাদের এই দীর্ঘ সারির কোনো নেতাকর্মীর নামে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা কলঙ্কজনক সংবাদ খবরের শিরোনাম হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনে চরম আর্থিক টানাপোড়েন ও নানামুখী প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা যেভাবে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শের সঙ্গে নিজ নিজ ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। শুধু তাই নয়, অধীনস্থ ও জুনিয়র নেতাকর্মীদেরও সবসময় নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ ও সততার পথে চলার জন্য তারা উৎসাহিত করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। ছাত্রদলের কোনো কার্যক্রমের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন কখনোই কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা হয়রানিমূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে তিনি ও তার নেতৃত্বাধীন টিম অত্যন্ত কঠোর ও মনোযোগী ছিল। এমনকি রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যখন বিভিন্ন ব্যক্তিগত বা একাডেমিক সমস্যা নিয়ে তার কাছে ছুটে এসেছেন, তখন তিনি নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছেন। এছাড়া দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে বিভিন্ন সময়ে পাশে থাকা ভ্রাতৃপ্রতিম অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি।
রাকিব ও নাসির কমিটির বিগত দিনের রাজনৈতিক সাফল্য এবং অর্জনের কথা স্মরণ করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন যে, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে অত্যন্ত কার্যকর ও বীরোচিত ভূমিকা পালন করাই ছিল তাদের কমিটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সফলতা। বিগত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরবর্তীতে শত শত পরিকল্পিত মব বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যা তাদের অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়েছে। একই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের বিরুদ্ধে চলা ধারাবাহিক বুলিং ও অপপ্রচার উপেক্ষা করে তারা অবিচলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। স্ট্যাটাসের একেবারে শেষাংশে এসে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনে একটি নতুন ও পরিচ্ছন্ন অধ্যায় শুরুর তীব্র প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নিজেকে ভবিষ্যৎ জীবনে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গভীর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, এই দীর্ঘ ও কঠিন দায়িত্ব পালনকালে যদি তার কোনো ধরনের ভুলত্রুটি হয়ে থাকে কিংবা অজান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তা যেন সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তার এই বার্তার মধ্য দিয়ে মূলত ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com