প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে উত্তর আমেরিকায় বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্বাগত কর্মসূচি, জনসংযোগ, শান্তি সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছে সংগঠনগুলো। দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের পুরো সময়জুড়ে এসব কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা ইতোমধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে রোববার একটি যৌথ ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সফরকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও উত্তর আমেরিকা সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমদ ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বক্তব্য দেন। নিউইয়র্কে দলীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এতে অংশ নেন।
সভায় নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলি উল্লাহ আতিকুর রহমান, নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আহবাব চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ এবং নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বক্তব্য দেন।
দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারাও সভায় অংশ নেন। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাইদ আহমদ, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মকসুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইফুর খান হারুন ও খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন। যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, জাসাসের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সায়েম ও সদস্যসচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সরোয়ার্দ এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক বাবর উদ্দিনও সভায় বক্তব্য দেন।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যতদিন নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন, ততদিন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয় থাকবেন। সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পিত কর্মসূচির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ভবনের সামনে বৃহৎ শান্তি সমাবেশ। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, এই সমাবেশে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ চালানো হবে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে সমাবেশের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বড় কমিউনিটি রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি বিএনপিরও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে সেখানে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দলটির উত্তর আমেরিকার নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতাদের লক্ষ্য, সফরের সময় স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচিকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে উত্তর আমেরিকা বিএনপির প্রস্তুতি অবশ্য একদিনে শুরু হয়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক নেতাদের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণে গত ২৩ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় সফরকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির সম্ভাবনা, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দলীয় নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে প্রবাসী রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে যেকোনো বড় সমাবেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি, জননিরাপত্তা, যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের বিষয় বিবেচনা করতে হয়। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে প্রস্তুতি চলছে, তার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো উত্তর আমেরিকায় দলীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের সংগঠকরা একই কর্মসূচিতে যুক্ত হলে দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় আগামী ৩০ আগস্ট উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকেন্দ্রিক চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই ঘোষণার পর কর্মসূচির পরিধি, অংশগ্রহণকারী সংগঠন, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কার্যক্রম এবং জনসংযোগের পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বহুপক্ষীয় আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও সাধারণ অধিবেশনের বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
এই সফরকে ঘিরে উত্তর আমেরিকা বিএনপির কর্মসূচি তাই একই সঙ্গে দলীয় ও প্রবাসী রাজনৈতিক তৎপরতার একটি বড় আয়োজন হিসেবে সামনে আসছে। স্বাগত কর্মসূচি থেকে শুরু করে শান্তি সমাবেশ ও জনসংযোগ—সবকিছু সফল করতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো।
আগামী কয়েক সপ্তাহে এসব প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হতে পারে। ৩০ আগস্ট চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার পর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিএনপির কার্যক্রম কোন কোন এলাকায় কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। তবে ইতোমধ্যে ধারাবাহিক সভা, দায়িত্ব বণ্টন এবং জনসংযোগের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকা বিএনপি সফরটিকে ঘিরে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতার আভাস দিয়েছে।