তিন সপ্তাহেও সংস্কার হয়নি খালে ধসে পড়া সড়ক

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশ খালে ধসে পড়ার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে সরকারি হাই স্কুল–তালুকদারহাট–গাজীপুর সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাত্র দেড় মাস আগে প্রায় পৌনে আট কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, আমতলী–তালুকদারহাট সড়কের ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে রাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি।

নিয়মিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে এই সড়কে চলাচল করেন আসাদুল হাওলাদার। গতকাল রোববার সকালে তিনি বলেন, সড়কের দেবে যাওয়া অংশ দিয়ে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন আরেক অটোরিকশাচালক মো. শহিদুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, দিনের তুলনায় রাতে ভাঙা অংশটি দিয়ে চলাচল করা আরও বিপজ্জনক।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাওড়া ইউনিয়নের কালিবাড়ি–তালুকদারহাট–গাজীপুর অংশের চার কিলোমিটার ৮৬০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় আট কোটি ৭৮ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৯ টাকা।

সংস্কারকাজের কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন। পরে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কাজটি নিয়ে নেন চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান। গত জুলাই মাসে সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হয়।

তবে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে কালীবাড়ি সেতু ও নাসিমার দোকানের মধ্যবর্তী এলাকায় খালের পাশ দিয়ে থাকা সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশ সাত থেকে আট ফুট নিচে ধসে খালে পড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধসের কারণে সড়কের পাশের ১০ থেকে ১৫টি বড় রেইনট্রি ও মেহগনি গাছও খালের দিকে হেলে পড়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের সঙ্গে লাল কাপড় টানিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি চিহ্নিত করেছেন। তবে স্থায়ীভাবে সড়কটি নিরাপদ করার কোনো কাজ এখনো শুরু হয়নি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না করলে ধস আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে সড়কটির সঙ্গে যুক্ত সরকারি হাই স্কুল, তালুকদারহাট ও গাজীপুর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ঠিকাদার মো. আখতারুজ্জামান বাদল বলেন, সড়কের যে অংশটি ধসে পড়েছে, সেখানে পুনরায় নির্মাণকাজ করা হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ধসে পড়া অংশটি কালীবাড়ি খালের পাশ দিয়ে নির্মিত। সড়কের নিচ দিয়ে সুরঙ্গ সৃষ্টি হওয়ায় মাটি সরে গিয়ে ওই অংশ ধসে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নতুন করে নির্মাণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বড় অংশ ধসে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত মেরামত করে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত