প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠন করা হয়েছে নতুন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়েছে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ। এখন থেকে তিন সংস্থার কার্যক্রম নতুন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হবে।
রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার বৃহস্পতিবার থেকে আইনটি কার্যকর করেছে।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার পর থেকে সংস্থা তিনটির সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।
নতুন কর্তৃপক্ষ পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত ও সুযোগ চিহ্নিত করা হবে নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করাও এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে।
একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথিপত্র, চুক্তি, দায়-দেনা এবং অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সেবাকে একই কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি কমিয়ে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।