জুলাই সনদকে সম্মান জানালো কানাডা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯৮ বার
জুলাই সনদকে সম্মান জানালো কানাডা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণের নতুন অধ্যায়ে কানাডা আবারও তার দৃঢ় সমর্থন ঘোষণা করেছে। গত ১৭ অক্টোবর, ঢাকার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ২৫টি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং তার দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

হাইকমিশনার অজিত সিং তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বলেন, “কানাডা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এই ঐতিহাসিক সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐকমত্য, জাতীয় ঐক্য, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছ শাসনকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে।”

এই সনদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সংস্কারের রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়েছে। সনদের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কানাডা এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

কানাডা ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার পরপরই কানাডা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করেছে। বর্তমানে, কানাডা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, মানবাধিকার, শ্রম সংস্কার ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে কানাডা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন গড়ে তুলতে অব্যাহত সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

অন্যদিকে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সনদে সাতটি মূল অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই সনদকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পালাবদলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার জনগণের আস্থা জোরদার এবং দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

কানাডা বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে অবিচল সমর্থন প্রদান করবে এবং এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে। কানাডা আশা প্রকাশ করেছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে এই সনদের মূল অঙ্গীকারগুলো প্রতিফলিত হবে এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই সমর্থন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। কানাডার এই সহায়তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের দিকে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ভোটের মাঠে থাকবে সেনা-পুলিশসহ সাড়ে আট লাখ সদস্য: ইসি সচিব

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত