সৌদি ফেরার সাত বছর পর অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৩ বার
সৌদি ফেরার সাত বছর পর অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী এলাকায় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর দেশে ফেরার সাত বছর পর অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির বিতর্কিত নেতা এনামুল হক মোল্লা। স্থানীয়রা তাকে ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন’ নামে চেনেন, যিনি ২০১৭ সালে নাম পরিবর্তন করে সৌদি আরবে চলে গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর এনামুল হক মোল্লা শ্রীপুর-সদরের গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক জুনায়েদ জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৫ নভেম্বর) যৌথবাহিনী বরকুল গ্রামের এনামুল হক মোল্লার বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালীন তাকে আটক করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সহযোগী শওকত মীর, জাহিদ, মোস্তফা, সিদ্দিক, বুলবুল ও তোফাজ্জলকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন, চার রাউন্ড গুলি, চারটি ওয়াকিটকি, চারটি বেটন, দুটি ইলেকট্রিক শর্ট মেশিন, একটি হ্যামার নেল গান এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানের সময় স্থানীয় জনগণও অবাক হয়েছিল।

এনামুল হক মোল্লা গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সর্বত্র পোস্টার টানিয়ে সভা, সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং করছিলেন। স্থানীয়দের মতে, তার প্রচারণা কার্যক্রম অনেকটা উগ্রতার সীমা অতিক্রম করছিল এবং এর ফলে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বিএনপি নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানিয়েছেন, এনামুল হক মোল্লা চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং ২০০১ সালে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারণে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এনামুল হক মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার দিকে নজর রেখেছিল।

নাম পরিবর্তন করে সৌদি আরবে বসবাসের সময়ে এনামুল হক মোল্লা স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও, সে বিদেশে থেকেও গাজীপুরের রাজনৈতিক এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। দেশে ফিরে আসার পর হেলিকপ্টারযোগে গ্রামে প্রবেশ করে সে প্রচারণা চালানো শুরু করে, যা স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিতে উদ্বেগজনক ছিল।

শ্রীপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলা নিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলেছে, দেশের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন রক্ষায় এমন অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই নেতার গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে যে, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অস্ত্র-সন্ত্রাস প্রতিরোধই তাদের মূল লক্ষ্য।

এনামুল হক মোল্লা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় শ্রীপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় শান্তি ফিরবে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে এনামুল হক মোল্লা ও সহযোগীরা শ্রীপুর থানা হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনা দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ রাজনৈতিক মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণা চালানো এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাস ও অস্ত্রসহ কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে। আইন মেনে চলা ও সন্ত্রাস দমন করা দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শ্রীপুর ও গাজীপুরের সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চলবে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

গ্রেপ্তারের পর দেশ ও সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা গেছে যে, কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যে আইন ও সামাজিক শান্তি অমান্য করতে পারবে না।

এ ঘটনাটি শুধু গাজীপুর বা শ্রীপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত