প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাংনী শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ (মিল্টন)কে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে তার সমর্থকরা মিছিল বের করেন। এর আগে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়ে যৌথ সভা আয়োজন করা হয়, যেখানে জেলা ও উপজেলা অঙ্গসংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দলের দুঃসময়ে জাভেদ মাসুদ সব সময় নেতা–কর্মীদের পাশে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় তিনি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তারা যুক্তি দেখান, মেহেরপুর-২ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হলে তাকে প্রার্থী করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আওয়াল এবং গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা সভায় বক্তব্য দেন। সভা শেষে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি গত সোমবার জাতীয় সংসদের ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণায় মেহেরপুর–১ (সদর-মুজিবনগর) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাসুদ অরুন এবং মেহেরপুর–২ (গাংনী) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে জাভেদ মাসুদকে প্রার্থী করার দাবিতে তার সমর্থকরা আন্দোলন শুরু করেন।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাংনী বাসস্ট্যান্ডে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও ঘটে। ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-দৌড়ের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে মেহেরপুর-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন বিএনপির দখলে ছিল এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনোনয়ন দিয়েছেন। অযথা হাঙ্গামা করে মনোনয়ন বাতিল করা যাবে না।’
এ ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং জেলা ও উপজেলা বিএনপির ভেতর সমর্থকরা জাভেদ মাসুদের পক্ষে অবস্থান জানানোর মাধ্যমে দলের মধ্যে প্রার্থীর বিষয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ করে। তবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিতর্ক দলের সাধারণ সমর্থকদের মনোবল এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সতর্ক করেছেন, অভ্যন্তরীণ অসহমতের কারণে নির্বাচনী মাঠে বিভাজন ঘটতে পারে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে।
গাংনীবাসীও এই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষকে নজরদারি করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে শহরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে হবে।
উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রেক্ষিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। প্রার্থীর বিষয়ে মতবিভেদ থাকলে তা সমাধান না করলে স্থানীয় স্তরের সমর্থন ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এবারের পরিস্থিতি তুলে ধরে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোতে মনোনয়ন বিতর্ক এবং নেতাদের প্রতি সমর্থকের আস্থা একটি জটিল বিষয়। মেহেরপুর-২ আসনের এই ঘটনা বিএনপির জন্য একটি পরীক্ষা, যেখানে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
বিক্ষোভ ও মিছিলের মধ্য দিয়ে জেলা বিএনপির সমর্থকরা তাদের প্রার্থীর প্রতি আস্থা ও আশা প্রকাশ করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং দলের ভেতরের সমন্বয় আগামী নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।