ভোলা-২ এ হাফিজ ইব্রাহিমের সংবর্ধনায় আবেগঘন বক্তব্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার
ভোলা-২ এ হাফিজ ইব্রাহিমের সংবর্ধনায় আবেগঘন বক্তব্য

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ভোলা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে ভয়, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের এক দীর্ঘ অধ্যায় অতিক্রম করেছে তার পরিবার। জিয়া পরিবারের পর সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে তার পরিবার—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার হয়ে তার ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সতেরো বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর, দীর্ঘ এই কারাবাসের অবসান ঘটিয়ে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বোরহানউদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢল নামা মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাফিজ ইব্রাহিম এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিবারকে ঘিরে থাকা চাপ এবং দলীয় দায়িত্বের কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার থেমে থেমে আবেগ ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, “আমি জিয়া পরিবারের কাছে চিরঋণী। তাদের বিশ্বাস ও আস্থায় আমি আজ এই পর্যায়ে। তারা আমাকে মনোনয়ন দিয়ে যে সম্মান দিয়েছেন—তা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। ৫ আগস্টে আমরা জনগণের শক্তিতে যে স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি, তা না হলে হয়তো জিয়া পরিবার কিংবা আমার ভাই মামুন কোনোদিনই মুক্তি পেত না।”

তার বক্তব্যের প্রতিটি শব্দে ছিল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ। তিনি বলেন, ভোলা জেলার চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হলে জিয়া পরিবারের প্রতি ঋণ শোধ হবে উন্নয়ন ও জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অতীত থেকে বেরিয়ে এখন সময় উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার পুনর্গঠনের।

বক্তৃতায় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীকে তীব্র সমালোচনা করেন। একসময় জামায়াত বিএনপির সহযোগী ছিল, উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবেই সক্রিয়, এমনকি আওয়ামী লীগের হয়ে মাঠে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরও বলেন, “জামায়াত এখন প্রতিপক্ষ হয়েই থেমে নেই। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে এবং যেসব এলাকায় তাদের প্রার্থী নেই, সেখানে বহিরাগত নেতাকর্মী এনে ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে।”

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা তার বক্তব্যে বারবার হাততালি দেন, অনেকেই আবেগে ভেসে ওঠেন। মাঠজুড়ে মানুষের ভিড় প্রমাণ করে, দীর্ঘদিন পরও তিনি এলাকায় তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। বক্তৃতার সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে এবং ভোটে বাধা ও অনিয়ম ঠেকাতে সংগঠিত থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খানের সভাপতিত্বে মঞ্চে ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউর রহমান কিরণ, হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান, হুমায়ুন কবির সোপান, ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা আল এমরান খোকন, সদস্যসচিব আজম কাজী, অ্যাডভোকেট ফরিদুর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান কবিরসহ দলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
তারা সবাই একে একে বক্তব্য দেন এবং হাফিজ ইব্রাহিমকে “ভোলার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুত প্রতীক” হিসেবে আখ্যা দেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নানা বয়সী মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানের মানুষ তাকে ঘিরে আশা ও আস্থার কথা জানান। এক বহুল আলোচিত রাজনৈতিক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে ওঠে এই অনুষ্ঠান। অনেকে বলেন, হাফিজ ইব্রাহিম শুধু একজন প্রার্থী নন, বরং দীর্ঘ সময় পর নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে ফিরে আসা একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, যার প্রত্যাবর্তন ভোলার রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে।

হাফিজ ইব্রাহিম তার বক্তব্যের শেষে ভোলার মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধভাবে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নদীভাঙন রোধসহ সব জরুরি সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। তিনি বলেন, “জনগণের ভালোবাসার মূল্য আমি জানি। ভোলাকে এগিয়ে নিতে আমি সবকিছুই করবো। এই ভালোবাসাই আমার শক্তি।”

গণসংবর্ধনা শেষে তাকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের পুরো সময় জুড়ে ছিল নানারঙের ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত আবহ। ভোলার রাজনীতিতে এই আয়োজনকে অনেকে ২০২৫ সালের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত