পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা: প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪২ বার
পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা: প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টিপাত রীতিমতো দুর্যোগের রূপ নিয়েছে। ভারি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন। সর্বশেষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকারি এবং প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ক্ষয়ক্ষতির এই ভয়াবহ চিত্র সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি অঞ্চলে। একদিকে ক্রমাগত বৃষ্টি, অন্যদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং দুর্বল অবকাঠামো পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে।

পাকিস্তানের জাতীয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্র (NDMA) জানিয়েছে, চলতি মৌসুমি বৃষ্টিপাত আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির বড় বড় নদীগুলোর উৎস অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এই বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল। সরকার ইতোমধ্যে এই আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বেলুচিস্তানে গত ৪৮ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিপাতে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (PDMA) জানিয়েছে, রাজ্যের অন্তত ২২টি জেলা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ২২টি বাড়ি আংশিক এবং ৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এই পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

বেলুচিস্তানের যেসব এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আওয়ারান, ঝাল মাগসি, খুজদার, মুসাখাইল, কিলা সাইফুল্লাহ, বারখান, কোলু, লোরালাই, ঝোব এবং শেরানি জেলার একাধিক অংশ। এসব অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে, আর এর ফলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাইবার পাখতুনখোয়া এবং রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদের বিভিন্ন অংশেও অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। শহুরে ও গ্রামীণ— উভয় এলাকাতেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তান এমনিতেই প্রতি বছর মৌসুমি বৃষ্টির সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না থাকায় এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা ও জরুরি সেবায় সীমাবদ্ধতা থাকায় এই দুর্যোগ প্রতিবারই মারাত্মক রূপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই ধরণের দুর্যোগকে আরও ঘন ঘন এবং তীব্র করে তুলছে।

দেশটির সরকারি ও বেসরকারি উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত কাজ করে চলেছেন, তবে দুর্যোগের ব্যাপ্তি এতটাই বিস্তৃত যে সকল জায়গায় পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো এখনও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারের একাধিক সূত্র।

যদিও আপাতত কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে, তবে পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও সময় লাগবে। এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জীবিতদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা। এতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং যথাযথ প্রস্তুতি।

একটি বাংলাদেশ অনলাইনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও শোক জানানো হচ্ছে এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন মানবিকতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com