চলতি মাসেই সব আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হচ্ছে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ রবিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে আলোচনা ও প্রত্যাশা। চলতি মাসের শুরুতে দলটি ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও এর পরদিনই মাদারীপুর–১ আসনের প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। ফলে এখনো ৬৪টি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই অবশিষ্ট সব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে, এবং এর আগেই সব দ্বন্দ্ব, সমঝোতা ও আলোচনা শেষ করার চেষ্টা চলছে।

দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, এখনো যেসব আসনে নাম ঘোষণা করা হয়নি তার পেছনে রয়েছে দুই প্রধান কারণ—কিছু আসন যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের জন্য বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, আর কিছু আসনে রয়েছে একাধিক হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবুও শীর্ষ নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী যে তফসিল ঘোষণার আগেই সব আসনে মনোনয়ন নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তাদের লক্ষ্য ফেব্রুয়ারির শুরুতে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নির্বিঘ্ন নির্বাচন আয়োজন; সেজন্যই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসের প্রথম দিকেই তফসিল ঘোষিত হবে, আর তার আগেই দল ও মিত্রদের আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো বিএনপির প্রতি কিছুটা চাপ বৃদ্ধি করেছে। তাদের অভিযোগ, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে শোডাউন, গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচি শুরু করলেও জোটের প্রার্থীরা এখনো অপেক্ষায় রয়েছে। এতে একই আসনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়াসহ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহ থেকে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি একের পর এক বৈঠক করছে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে, যাতে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়।

বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি তাদের গ্রিন সিগন্যাল দিলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় মাঠে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তিনি দ্রুত মিত্রদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা সাইফুল হক আরও খোলামেলাভাবে অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নিজ দলের প্রার্থী ঘোষণা করলেও জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতায় অগ্রগতি খুবই ধীর। তার মতে, এ ধরণের বিলম্ব মিত্রদের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বাড়াতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। প্রয়োজনে গণতন্ত্র মঞ্চ বিকল্প চিন্তার দিকেও যেতে বাধ্য হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এই সব চাপ ও সমালোচনার মাঝেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন যে নভেম্বরের মধ্যেই পুরো মনোনয়নপ্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, শরিকদের সঙ্গে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং সমঝোতা হলে দুই পক্ষই একযোগে তা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আরপিও পুনরায় সংশোধিত না হলে নিবন্ধিত শরিকদের নিজেদের প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে, যা আবারও আসন বণ্টনে নতুন হিসাব তৈরি করছে।

এদিকে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর অন্তত ২৩টি আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনও উঠেছে বেশ কয়েকজনকে ঘিরে। এসব বিরোধ দ্রুত সমাধানে হাইকমান্ড বিভাগীয় ও স্থানীয় নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছে, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে বৈঠক করছেন। জানা গেছে, যেসব আসনে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে সেগুলোতে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রার্থীদের অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে। এই যাচাই–বাছাইয়ের পর কিছু আসনে প্রাথমিক তালিকার পরিবর্তন আসতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও বিরোধপূর্ণ আসনগুলোতে সমঝোতা করিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং এখনো যেসব আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া বাকি, সেগুলোও দ্রুতই শেষ করা হবে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিশ্বাস, সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা–সমঝোতার মাধ্যমে একে একে সমস্যা দূর হবে, এবং শেষ পর্যন্ত সবাই একসঙ্গে কাজ করলে ধানের শীষের পক্ষে বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত