সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

মজলুমের দোয়া আজ কবুল হলো, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
মজলুমের দোয়া আজ কবুল হলো, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ঘটে যাওয়া গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেছে। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। রাজপথ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলঘর, শহরের বিভিন্ন এলাকা সহ গ্রামাঞ্চলে মানুষ একপ্রকার আনন্দের ঢেউ বয়ে দিয়েছে। সাধারণ জনগণ, ছাত্র-ছাত্রীরা এবং আন্দোলনের সময় নিপীড়িত মানুষদের পরিবার রায়ের পর উল্লাস, খুশি ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে এই দিনকে স্মরণীয় করে তুলেছে। রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা শামারুহ মির্জা নিজের ফেসবুক পেজে রায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রায় দিল। আব্বুকে ফোন করলাম! কাঁদলাম! সেই ২০১৩ থেকে আমি অপেক্ষা করছিলাম! আমাদের জীবনের যে ভয়াবহ ক্ষতি করেছিল হাসিনা, কতবার ভেবেছি, কবে সুযোগ আসবে। আমি মামলা করব, আমাদের মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি করার জন্য।’ শামারুহ মির্জা আরও উল্লেখ করেছেন, ‘এই ১২ বছরে কত লাখ লাখ পরিবার শেষ করেছে হাসিনা। কত মানুষ খুন করেছে, গুম করেছে! মজলুমের দোয়া আজ কবুল হলো। আল্লাহ সর্বশক্তিমান।’ তাঁর এই উক্তি দেশের নিপীড়িত মানুষদের দীর্ঘ দিনের কষ্ট ও আশা ব্যক্ত করছে। রায়ের বিশদ বিবরণে জানা যায়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ওপর ভয়ানক দমন-নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। শহীদ শিশু ও নিরীহ মানুষের সংখ্যা ছিল অত্যধিক। দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে হামলায় কমপক্ষে শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দীর্ঘ দিনের আশা ও প্রতীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় কার্যকর হলো। রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় শহর ও গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা রাস্তা-পথ ঘাটে উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দের আয়োজন করেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নানা আয়োজন করেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনরায় প্রদর্শিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তারা মনে করছেন, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তি কার্যকর হওয়া সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় শুধু এক ব্যক্তির শাস্তি নয়, এটি দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করছে। রাষ্ট্র ও সমাজকে এটি বার্তা দিচ্ছে যে, যে কোনো সময় ক্ষমতা অপব্যবহার করলে তার জবাবদিহি বাধ্যতামূলক। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক অবস্থায় থাকলেও রায়ের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে তাদের অপরাধের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এবং শহীদ পরিবারদের মধ্যে এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আশা ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। দীর্ঘদিন নিপীড়িত মানুষ ও তাদের পরিবারদের জন্য এটি শান্তি, ন্যায় ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রায়ের পর সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ, আনন্দ এবং মিষ্টি বিতরণ সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার আনন্দের প্রতিফলন। এই রায় ভবিষ্যতের জন্যও একটি শিক্ষণীয় বার্তা বহন করছে—ক্ষমতা সীমাহীন নয়, আর অপব্যবহার করলে কোনো অবস্থাতেই এর প্রতিশোধ এড়ানো সম্ভব নয়। মজলুমের দীর্ঘ প্রতীক্ষার দিনটি আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ঘটে যাওয়া গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেছে।

রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। রাজপথ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলঘর, শহরের বিভিন্ন এলাকা সহ গ্রামাঞ্চলে মানুষ একপ্রকার আনন্দের ঢেউ বয়ে দিয়েছে। সাধারণ জনগণ, ছাত্র-ছাত্রীরা এবং আন্দোলনের সময় নিপীড়িত মানুষদের পরিবার রায়ের পর উল্লাস, খুশি ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে এই দিনকে স্মরণীয় করে তুলেছে।

রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা শামারুহ মির্জা নিজের ফেসবুক পেজে রায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রায় দিল। আব্বুকে ফোন করলাম! কাঁদলাম! সেই ২০১৩ থেকে আমি অপেক্ষা করছিলাম! আমাদের জীবনের যে ভয়াবহ ক্ষতি করেছিল হাসিনা, কতবার ভেবেছি, কবে সুযোগ আসবে। আমি মামলা করব, আমাদের মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি করার জন্য।’

শামারুহ মির্জা আরও উল্লেখ করেছেন, ‘এই ১২ বছরে কত লাখ লাখ পরিবার শেষ করেছে হাসিনা। কত মানুষ খুন করেছে, গুম করেছে! মজলুমের দোয়া আজ কবুল হলো। আল্লাহ সর্বশক্তিমান।’ তাঁর এই উক্তি দেশের নিপীড়িত মানুষদের দীর্ঘ দিনের কষ্ট ও আশা ব্যক্ত করছে।

রায়ের বিশদ বিবরণে জানা যায়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ওপর ভয়ানক দমন-নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। শহীদ শিশু ও নিরীহ মানুষের সংখ্যা ছিল অত্যধিক। দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে হামলায় কমপক্ষে শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দীর্ঘ দিনের আশা ও প্রতীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় কার্যকর হলো।

রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় শহর ও গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা রাস্তা-পথ ঘাটে উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দের আয়োজন করেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নানা আয়োজন করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনরায় প্রদর্শিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তারা মনে করছেন, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তি কার্যকর হওয়া সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় শুধু এক ব্যক্তির শাস্তি নয়, এটি দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করছে। রাষ্ট্র ও সমাজকে এটি বার্তা দিচ্ছে যে, যে কোনো সময় ক্ষমতা অপব্যবহার করলে তার জবাবদিহি বাধ্যতামূলক।

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক অবস্থায় থাকলেও রায়ের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে তাদের অপরাধের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এবং শহীদ পরিবারদের মধ্যে এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আশা ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। দীর্ঘদিন নিপীড়িত মানুষ ও তাদের পরিবারদের জন্য এটি শান্তি, ন্যায় ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রায়ের পর সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ, আনন্দ এবং মিষ্টি বিতরণ সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার আনন্দের প্রতিফলন।

এই রায় ভবিষ্যতের জন্যও একটি শিক্ষণীয় বার্তা বহন করছে—ক্ষমতা সীমাহীন নয়, আর অপব্যবহার করলে কোনো অবস্থাতেই এর প্রতিশোধ এড়ানো সম্ভব নয়। মজলুমের দীর্ঘ প্রতীক্ষার দিনটি আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত