চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তী: ৬০ বছরের গৌরব ও স্মৃতি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তী: ৬০ বছরের গৌরব ও স্মৃতি

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশের সবুজ পাহাড়ের কোলে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, যা আয়তন ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় এবং অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। পাখির কলতান, ঝরনার শব্দ, প্রকৃতির নৈসর্গিক পরিবেশের মাঝে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, অধ্যাপক, গবেষক ও সংস্কৃতিপ্রেমী এই বিদ্যাপীঠকে তাদের জ্ঞান, স্বপ্ন ও সৃষ্টিশীলতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ৬০ বছর পূর্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি হাজার হাজার মানুষের স্মৃতি, স্বপ্ন, বন্ধুত্ব এবং প্রেমেরও এক প্রতীক।

উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বলেন, “আমরা প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করি। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছর প্রথম ৫৯তম দিবস উদযাপন করেছি। এবার নতুন উদ্যম, অংশগ্রহণ ও পরিকল্পনার সঙ্গে দিবসটি পালন করছি। বিশেষভাবে এবারের উদযাপনে ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, চাকসু, অংশগ্রহণ করছে, যা আমাদের উদযাপনকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।” তিনি বলেন, “৬০ বছরের এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় যতটা এগোতে পারত, সেই পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি। শহর থেকে অনেক দূরে অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার সমাধানের জন্য আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি।”

উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একাডেমিক পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে যেখানে তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়। বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে শিক্ষার্থীদের মনকে উদ্বুদ্ধ করে, যা গবেষণা, শিক্ষা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

প্রো-ভিসি কামাল সহ অন্যান্য প্রশাসনিক সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান। এর মধ্যে রয়েছে চীনে কনফুসিয়াস সেন্টারের সঙ্গে সহযোগিতায় চার-থেকে পাঁচ-তলা একটি চাইনিজ ভাষা কেন্দ্র স্থাপন। এছাড়াও ওয়ান স্টপ বুক অ্যান্ড সুভ্যেনির শপ এবং দশ তলা বিশিষ্ট দুটি হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

চাকসু প্রতিনিধি হিসেবে একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞানের কেন্দ্র নয়, এটি স্বাধীন চিন্তা, সংস্কৃতি ও নেতৃত্ব বিকাশের স্থান। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষককের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা এবং অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস, নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দিকনির্দেশ।”

বিশ্ববিদ্যালয়টি ৬০ বছরে দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে। তবে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা স্বীকার করেছেন যে এখনও অনেক অগ্রগতি অর্জন বাকি। প্রতিষ্ঠানটি দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আরও উচ্চ মানের গবেষণা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে।

উপাচার্য আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টুকু আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় অধ্যায়। আমাদের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন করা। বিশ্ববিদ্যালয় তাদেরকে প্রস্তুত করবে বিশ্বমানের চ্যালেঞ্জের জন্য।” তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীরা যেন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন না করে, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষাও গ্রহণ করে।

৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা সকলেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাভিত্তিক, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রেক্ষাপটে তাদের দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতা এবং নান্দিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মিলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষার আলয় নয়; এটি একটি প্রেরণার কেন্দ্র, যেখানে ছাত্রদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তা, নেতৃত্ব এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশিত হয়।

উপাচার্য এবং শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে আশা প্রকাশ করেছেন যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৬০ বছরের গৌরব ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আরও আধুনিক, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। তাদের লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় এবং উদ্ভাবনী শক্তির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

৬০ বছর পূর্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও গৌরবময় অধ্যায় রচনা করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র বিদ্যার কেন্দ্র নয়, এটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, স্বাধীন এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এক প্রেরণার বাতিঘর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত