সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

রহস্যে ঘেরা আমিরুল—মেহজাবীনের মামলার বাদী কে?

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
রহস্যে ঘেরা আমিরুল—মেহজাবীনের মামলার বাদী কে?

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে কেন্দ্র করে হঠাৎই আলোচনায় চলে এসেছে একটি মামলার খবর। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগ এনে একজন ব্যক্তি মামলা করেছেন, যিনি নিজেকে আমিরুল ইসলাম বলে পরিচয় দেন। মামলার খবর প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন উঠেছে—এই আমিরুল আসলে কে? কী তার প্রকৃত পরিচয়? এবং তার অভিযোগের পেছনে বাস্তবতা কতটা?

ঘটনার শুরু ঢাকার একটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে। মামলায় বলা হয়, বহুদিনের পরিচয়ের সুবাদে মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান চৌধুরী বাদী আমিরুলকে পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই বিশ্বাসে বিভিন্ন সময়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ২৭ লাখ টাকা তিনি অভিনেত্রীকে দেন বলে দাবি করা হয়েছে। ব্যবসা শুরু না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে উত্তেজনা, সময়ক্ষেপণ এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদানের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে এলাকার মানুষের বক্তব্য এ কাহিনিকে নতুন প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কারণ, বাদী হিসেবে যিনি নিজের পরিচয় দিয়েছেন আমিরুল ইসলাম নামে—তাকে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কেউই চেনেন না। তিনি যে ঠিকানাটি মামলার কাগজপত্রে উল্লেখ করেছেন, তা বাস্তবে তার কোনো পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে মেলেনি। এমনকি মোবাইল নম্বরটিও যে প্রকৃত নয়, তা সহজেই ধরা পড়ে। নম্বরটি ১২ ডিজিটের—যা বাংলাদেশের প্রচলিত ১১ ডিজিটের সিস্টেমের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে মামলাকারীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এমিরুল দাবি করেন ফেসবুকের মাধ্যমে তার সঙ্গে অভিনেত্রীর পরিচয় হয় এবং দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে কথাবার্তা চলছিল। সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের প্রতিশ্রুতিতে অভিনেত্রী তার থেকে লাখ লাখ টাকা নেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বুটিক ব্যবসা করার কথা বলে এই অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিছু মাস মুনাফা দেওয়ার পর সব বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি বহুবার অভিনেত্রীর বাসায় গিয়েও নানান বিড়ম্বনার শিকার হন।

তার অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো, একদিন তিনি বসুন্ধরার বাসার সামনে গেলে মেহজাবীনের ভাই এবং আরও কয়েকজন তাকে থাপ্পড় দিয়ে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেয়। কিছু সময় পর তিনি নিজেকে হাতিরঝিলে খুঁজে পান। সেখানে তাকে বলা হয়, “এভাবে যদি আর টাকা চাইতে আসো, তাহলে প্রাণনাশও হতে পারে।”

এই ভীতিকর অভিজ্ঞতার পর আমিরুল মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(৩) ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় হাজিরার দিন ধার্য করা হয়েছিল, কিন্তু আসামিরা হাজির না হওয়ায় গত ১০ নভেম্বর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পাশাপাশি গ্রেফতারের তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

মামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে একটি বিষয়—এই আমিরুল আসলে কি বাস্তব ব্যক্তি? নাকি মামলাটি সাজানো? কারণ মেহজাবীন চৌধুরী বাংলাদেশে অত্যন্ত পরিচিত এবং দীর্ঘদিন বিনোদন অঙ্গনে কাজের মাধ্যমে নিজস্ব জায়গা গড়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের নজর কাড়ে, কিন্তু অভিযোগকারী যে পরিচয় দিয়েছেন, তা বহু ক্ষেত্রে অসঙ্গতিপূর্ণ।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি করছে যোগাযোগ নম্বরটি। দেশের প্রচলিত মোবাইল সিস্টেমে ১২ ডিজিটের কোনো বৈধ নম্বর নেই। তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিচয়পত্র, ঠিকানা, অভিযোগের সত্যতা—সবই তদন্তের আওতায় আসবে।

আবার মেহজাবীনের পক্ষে ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, অভিনেত্রীর সঙ্গে এই ব্যক্তির কোনো বাস্তব সম্পর্ক ছিল না। তারা দাবি করছেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করা হতে পারে। অন্যদিকে আমিরুলের মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মেহজাবীনের সঙ্গে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথা হতো এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিনেত্রীর প্রতি আস্থা রেখে অর্থ দিয়েছিলেন।

এই উভয় পক্ষের বক্তব্যই বর্তমানে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের লেনদেন হলে তার প্রমাণ থাকা উচিত—বিকাশ বা ব্যাংক লেনদেনের কাগজপত্র, স্ক্রিনশট, অডিও-ভিডিও সবই আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া শারীরিক আঘাত বা অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণে চিকিৎসা রিপোর্ট, সাক্ষী বা সিসিটিভি ফুটেজের প্রয়োজন পড়ে।

অপরদিকে, মামলার বাদী সম্পর্কে স্থানীয়দের মন্তব্যও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। কেউ তাকে না চেনা, ঠিকানার সঙ্গে মিল না পাওয়া, ফোন নম্বরের অসঙ্গতি—এসবই প্রশ্ন তুলেছে অভিযোগকারীর পরিচয় নিয়ে। এমনকি অনেকে বলছেন, অভিযোগগুলো শোনায় নাটকীয়তার ছাপ রয়েছে, যা সঠিক তদন্ত ছাড়া সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি এমন যে, মামলাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, এটি হয়তো কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যের ফলাফল হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, জনপ্রিয়তার কারণে যেকোনো তারকাকে টার্গেট করা হয়, যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

মেহজাবীন অবশ্য আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন। তার আইনজীবীরা বলেছেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং প্রমাণহীন। তারা আত্মবিশ্বাসী যে তদন্তে সব পরিষ্কার হবে।另一方面, বাদীর দিক থেকে এখনো কোনো সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা রহস্যকে আরও গভীর করছে।

মামলার পরবর্তী তারিখ ১৮ ডিসেম্বর। সেইদিন গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, সেটিই হবে সবার নজরে। কারণ এই মামলাটি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে ঘিরেই নয়, বরং বাংলাদেশে সাইবার যোগাযোগ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন এবং পরিচয় গোপনের মতো নানা জটিল ইস্যুকে সামনে এনে দিয়েছে।

সত্যিই কি কোনো ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে ২৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল? নাকি অন্য কেউ কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে পুরো ঘটনা তৈরি করেছে? বাদী আসলে কে—এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে পরবর্তী তদন্তে, আর আদালতের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এ অভিযোগের ভবিষ্যৎ রূপ।

এই মুহূর্তে যা স্পষ্ট—মামলাটি পুরোপুরিভাবে রহস্যে মোড়া, আর তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে সত্যের উদ্ঘাটন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত