কপ৩১ আয়োজন করবে তুরস্ক; অস্ট্রেলিয়া পিছিয়েছে বোঝাপড়ায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭২ বার
কপ৩১ আয়োজন করবে তুরস্ক; অস্ট্রেলিয়া পিছিয়েছে বোঝাপড়ায়

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

আগামী বছরের নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (COP 31), এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশের দীর্ঘ দিনের কূটনৈতিক আলোচনার পর। অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম প্রস্তাব থেকে সরে আসার পরে, তুরস্ক এই সম্মেলনের আয়োজন করার সম্মান পায়। এই চুক্তি ব্রাজিলে আয়োজিত কপ৩০ সম্মেলনের সময় অংশীদারিত্ব ও দ্বিপক্ষীয় দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।

তুরস্কের ভূমিকা শুধুমাত্র আয়োজক হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এক সমঝোতার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া COP 31 সংলাপ পর্ষদ (presidency) দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যা সম্মেলনের আলোচনামূলক এজেন্ডা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, এবং এটি আমাদের জন্য অসাধারণ ফলাফল।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এই সমঝোতা শুধু আয়োজকত্বে সীমাবদ্ধ নয়, গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক রোলেও অস্ট্রেলিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে।

তবে এই চুক্তি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। গ্রিনপিস অস্ট্রেলিয়া-প্যাসিফিক শাখা প্রেসিডেন্ট ডেভিড রিটার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কেবল আয়োজকত্ব বা নেতৃস্থানীয় পদের দখলই যথেষ্ট নয়; COP 31-এ জীবাশ্ম জ্বালানি দমনের প্রচেষ্টা এবং বন উজাড় প্রতিরোধকে প্রধান এজেন্ডায় রাখতে হবে।

পৃথকভাবে, অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছেন যে তারা কো-হোস্টিং চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেছেন, “সংযুক্ত আয়োজন সংক্রান্ত প্রস্তাবটি জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী সম্ভব নয়।”  ইউন ক্লিক করে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব কেবল জায়গার লড়াই না, বরং রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

তুরস্কের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা ও শহরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন নীতি কর্মকর্তা ফাতমা ভারঙ্ক জানান, তাদের দেশ “ভঙ্গুর অঞ্চলের জনগণের পক্ষে দাঁড়াবে” এবং তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যেমন গরম, খরা, বন্যা ও অগ্ন্যুৎপাত মোকাবেলায় শক্তিশালি ভূমিকা নিতে চায়।

কিন্তু অনেক সমালোচক মনেকরে যে এই চুক্তি রাজনৈতিক অভিনয়ের অংশ; বিশেষ করে অর্থনৈতিক সুবিধা, আন্তর্জাতিক অন্তর্ভুক্তি এবং মাদক-নীতি কাঠামোর অংশ হিসেবে। গ্রিনপিসের মন্তব্যে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য COP31-এর আয়োজন ব্যয় এবং রাজনৈতিক লাভ/questions ও বিতর্কित বিষয়ও রইল। এই নির্ধারণে প্যাসিফিক দ্বীপদেশগুলোর প্রতিক্রিয়া মিশ্র—কীভাবে তাদের জলবায়ু চাহিদাগুলো আসল বৈঠকে প্রতিফলিত হবে, সেটি এখন দেখার বিষয়।

তুরস্কে আয়োজকত্ব অবশ্য তাদের জন্য কেবল গুণগান নয়, চ্যালেঞ্জও বয়ে নিয়ে আসে। দেশটি ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে লড়ছে; গরম মৌসুম, জলবদ্ধতা, ও জলবায়ু সংঘাতসহ নানা বিষয় তাদের জন্য বাস্তব সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। তাঁদের দায়িত্ব হবে শুধু আয়োজক হওয়া নয়, একটি শক্তিশালী ও বাস্তবমুখী জলবায়ু এজেন্ডা তৈরি করা।

এই COP31 সিদ্ধান্ত কেবল দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ব্যাপার নয়। এটি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ন্যায্যতা, দায়িত্বশীল কর্মসূচি, এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রূপায়ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষণ হয়ে উঠেছে। আসন্ন সম্মেলন কেবল একটি সভা না, বরং জলবায়ু নীতির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণকে প্রভাবিত করার এক বড় মঞ্চ হিসেবে কাজ করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com