সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত একটি সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেশের তিন বাহিনীর প্রধান উপস্থিত ছিলেন। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে জাতীয় সুরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় আরও দৃঢ় করার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাতের আয়োজন করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, এই সাক্ষাত মূলত সৌজন্য ও মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন বাহিনীর প্রধানরা প্রধান উপদেষ্টাকে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার জন্য যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের স্মৃতিই আমাদের আজকের সুরক্ষা এবং শান্তি নিশ্চিত করছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি শহীদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং অনুরোধ জানান, নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম এবং জাতির সেবা সম্পর্কে সচেতন করতে সকলের প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

সাক্ষাতের সময় তিন বাহিনীর প্রধানরা বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, সীমান্ত পরিস্থিতি, এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রস্তুতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে নিশ্চিত করেন যে, সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তত আছে এবং প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারে বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও এই প্রসঙ্গে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

সাক্ষাত শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জাতির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য। তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় দেশের নিরাপত্তা নীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নাগরিক সচেতনতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতের সময় উষ্ণ পরিবেশে চলেছে আন্তরিক আলোচনা, যা ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অংশগ্রহণকারীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে নেতৃত্বের সৌজন্য সাক্ষাৎ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি জাতীয় সংহতি, দেশপ্রেম এবং সামরিক সক্ষমতার প্রকাশ হিসেবেও গুরুত্ব বহন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের এই মিলন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক ঐক্যবদ্ধ বার্তা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে। এ বছরও দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, এবং সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষভাবে এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি দেশের নিরাপত্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাক্ষাত শেষে প্রধান উপদেষ্টা এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত