সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

নাইজেরিয়ার স্কুলে ভয়াবহ হামলা: ২১৫ শিক্ষার্থী–১২ শিক্ষক অপহৃত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার

পশ্চিম নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের আগওয়ারা জেলার পাপিরি সম্প্রদায়ের সেন্ট মেরি স্কুলে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে ২১৫ জন শিক্ষার্থী এবং ১২ জন শিক্ষককে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। দেশটির খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন—সিএএন জানায়, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ করেই স্কুলে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এসময় স্কুলের একজন নিরাপত্তারক্ষী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। হামলার পর পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আর ঘটনাস্থলের বাইরে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।

কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় অপহরণের ঘটনা। মাত্র দুই দিন আগে, ১৯ নভেম্বর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি স্কুল থেকে ২৫ জন ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল। ধারাবাহিক এই অপহরণকাণ্ডে দেশজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছেছে।

নাইজার রাজ্য সরকারের সচিব এক বিবৃতিতে জানান, এ হামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই গোয়েন্দা সতর্কতা পেয়েছিল। কিন্তু স্কুলটি রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়াই পুনরায় চালু হয়েছিল। তার দাবি, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করায় স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের এ বিপদের মুখে পড়তে হলো। স্থানীয় প্রশাসনের এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে—অনেকে স্কুল প্রশাসনকে দায়ী করছেন, আবার অনেকেই সরকারি তৎপরতার ঘাটতিকে তুলে ধরছেন।

এদিকে নাইজারের স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃতদের উদ্ধারে ইতিমধ্যেই ট্যাকটিকাল ইউনিট এবং সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, সেন্ট মেরি একটি বড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যার সঙ্গে রয়েছে একটি প্রাথমিক শাখা। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে—স্কুলটিতে রয়েছে ৫০টিরও বেশি ভবন, যার মধ্যে আছে শ্রেণিকক্ষ, আবাসিক হল এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এত বড় ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকাই অপহরণের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হামলার পর নিখোঁজদের সন্ধানে স্কুলগেট ও থানার সামনে ভিড় করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, আগেও এই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল ছিল, কিন্তু এত বড় আকারে অপহরণ আগে দেখা যায়নি। স্থানীয় ৬২ বছর বয়সি দাউদা চেকুলা সংবাদ সংস্থা এপি-কে জানান, তার সাত থেকে দশ বছর বয়সি চার নাতি-নাতনিকে ধরে নিয়ে গেছে বন্দুকধারীরা। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি শুধু জানতে চাই তারা বেঁচে আছে কি না।

এ ঘটনার জেরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু। তার পরিবর্তে সম্মেলনে যোগ দেবেন উপ-রাষ্ট্রপতি কাশিম শেট্টিমা। প্রেসিডেন্টের দফতর জানিয়েছে, দেশজুড়ে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য টিনুবু নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মনে করছে, সাম্প্রতিক অপহরণগুলো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা কৌশলগত উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ার খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরপরই এসব অপহরণ ও গির্জায় হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে তারা দাবি করছে। তবে নাইজেরিয়া সরকার এই অভিমত নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মুসলিমরাই; তাই ঘটনাগুলো ধর্মীয় নির্যাতনের উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন।

ভয়াবহ এই অপহরণের পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। একইসঙ্গে পরিবারগুলো অপেক্ষা করছে—তাদের সন্তানরা কখন ফিরে আসবে, আদৌ ফিরে আসবে কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত