গাজায় শীতকালীন ঝড়ে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারাল ১০ জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১০ বার
গাজায় শীতকালীন ঝড়ে মৃত্যু বেড়ে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন প্রাণ হারাল

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ এখনও থমকে না থাকা অবস্থায় শীতকালীন শক্তিশালী ঝড় ‘বায়রন’ নতুন করে দুর্যোগ হিসেবে নামিয়ে দিয়েছে সহস্রাধিক ফিলিস্তিনির জীবনে অস্থিরতা ও আতঙ্ক। গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র বৃষ্টিপাত, ঝড়ো বায়ু ও প্লাবিত পরিস্থিতির কারণে কমপক্ষে দশজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটকালে পরিণত হচ্ছে। গাজা উপত্যকার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, যুদ্ধ ও উন্নত অবকাঠামোর অভাবে শীতে তীব্র দুর্যোগের তাণ্ডব আরও ক্ষতিকর অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে এই ধবলবধ্য অঞ্চলটিকে।

এ ঘটনায় গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বির আন-নাজা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় একজনের লাশ, আর দুই শিশুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের কাজ এখনও চলছে এবং আরও হতাহতের তথ্য সামনে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উদ্ধারকর্মীরা। তীব্র বৃষ্টিপাত ও বজ্রঝড়ের কারণে বহু ঘরবাড়ি, দেয়াল, এবং বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু ভেঙে পড়েছে, ফলে গাজার বিভিন্ন অংশে জনজীবন বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।

শীতের এই ঝড়ে শুধু ইমারত বা তাঁবুর ক্ষতি হয়নি; এতে প্লাবিত এলাকায় আটকা পড়ে যাওয়া একটি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধার গাড়ি উদ্ধারকারী দল উদ্ধার করেছে, যা প্রমাণ করে পরিস্থিতি কতটা চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। বৃষ্টি ও প্রবল তাপমাত্রা পতনের ফলে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসহায় পরিবারগুলো শীতের প্রকৃত টানে বিপদের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

গাজার প্রধান শহরগুলোতে বায়রনের কারণে টানা ভারী বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেছে, যার ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও নাজুক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা। উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো, বিশেষত আল-মাওয়াসির মতো জায়গায় লাখ লাখ মানুষ বসবাস করেন যেখানে জলমগ্ন ও তীব্র বাতাস সাধারণ জীবনের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে দিচ্ছে। কেউ কেউ তাদের তাঁবু কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত অস্থায়ী আশ্রয় ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন নতুন নিরাপদ স্থানের খোঁজে, আবার কেউ আবার প্লাবিত রাস্তায় হাঁটছে তাদের জীবন ও স্বপ্ন রক্ষা করার এক অনিশ্চিত যুদ্ধে।

বায়রনের কারণে জলমগ্ন অবস্থায় প্লাবিত হওয়া পরিস্থিতি শুধু গৃহহীনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উপকূলের কাছাকাছি মাটির অংশ ধসে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের তাঁবু ও ক্ষতি হওয়া আশ্রয়গুলোকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে। জরুরি কাজ হিসেবে উদ্ধারকারী দলগুলো বহু এলাকা থেকেই মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিচ্ছে, কিন্তু সহায়তা ও পুনর্বাসনের অভাব এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

মানবসৃষ্ট যুদ্ধ ও বায়রন ঝড়—এই দুই প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগের সংমিশ্রণে গাজার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এক ভয়াবহ মোড়কে ঢুকে পড়েছে। অধিকাংশ পরিবারই ইতিমধ্যেই যুদ্ধের কারণে তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে ফেলেছে এবং এখন শীতের এই ঝড়ে তারা নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানিবন্দী তাঁবু, শীতল বায়ু ও সঙ্কীর্ণ আশ্রয়ে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, যেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, গরম কাপড় বা ওষুধের মতো মৌলিক সুবিধা তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো গাজায় যুদ্ধ ও আবহাওয়া‑সংক্রান্ত দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু রিসোর্সের সীমাবদ্ধতা ও চলমান অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা পর্যাপ্ত নয়। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি ও দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা তাড়াতাড়ি গাজায় আর্থিক, চিকিৎসা ও আবাসিক সহায়তা পাঠায়, যাতে শীতের এই প্রকৃত বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষ একটু সান্ত্বনা পেতে পারে।

যুদ্ধ ও শীতের ঝড়—যারা গত দুই বছর ধরে দিনযাপন করছে, তারা বায়রন ঝড়ের তাণ্ডবের মাঝেও যেন ছিন্ন হয়ে পড়া জীবনের ক্ষতগুলো ঝালিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিটি শহর, প্রতিটি ক্যাম্প, প্রতিটি পরিবার—সবাইই এক নতুন ধকলের মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে শীতের তীব্রতায় প্রতিনিয়ত জীবনহানি ও দুর্যোগের প্রতিক্রিয়া চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com