প্রকাশ : ১০ জুলাই | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি দুর্বল চিত্র ফুটে উঠেছে, যা অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক সবারই নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের মোট ১৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ, এইসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে—যা দেশের শিক্ষা খাতের বেহাল দশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গত বছর শূন্য পাসের তালিকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১টি। এক বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ১৩৪-এ দাঁড়ানোয় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন এভাবে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে কিছু প্রতিষ্ঠান? শিক্ষাবিদরা বলছেন, এর পেছনে শিক্ষকের স্বল্পতা, মানসম্মত পাঠদানের অভাব, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি, নিম্নমানের অবকাঠামো এবং যথাযথ তদারকির অভাব বড় ভূমিকা রাখছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, সেখানে এ বছর পাসের হার কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ পয়েন্টের বেশি। পাসের হারের এই বড় ধস অভিভাবক ও শিক্ষার্থী মহলে হতাশা তৈরি করেছে।
যদিও এ চিত্রের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। ছাত্রীদের পাসের হার ছেলেদের তুলনায় এবারও বেশি। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি টানা দশম বছরের মতো পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকার প্রমাণ।
তবে আশঙ্কার আরেক দিক হলো, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে বড় পরিসরে। এবছর সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী, যেখানে গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। ফলে ভালো ফলের হারও স্পষ্টভাবে কমেছে।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১০ এপ্রিল, শেষ হয় ১৩ মে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে না পারা, শারীরিক উপস্থিতি ও পাঠদান ব্যাহত হওয়া, পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদারকির ঘাটতি এমন হতাশাজনক ফলাফলের অন্যতম কারণ। বিশেষত, যেসব প্রতিষ্ঠান একটিও পাস করাতে পারেনি, সেগুলোতে দ্রুত বিশেষ নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
দেশের প্রতিটি শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তবে শূন্য পাসের এই তালিকা প্রমাণ করছে, এখনো বহু স্কুলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসানোই শেষ কথা হয়ে আছে। পড়াশোনা বা শেখার গুণগত মান নিয়ে সঠিক কোনো পরিকল্পনা কার্যকর হচ্ছে না।
পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও আধুনিক ও বাস্তবমুখী করা, দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ—সব মিলিয়ে সবার কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। না হলে আগামী বছরগুলোতেও এমন শূন্য পাসের তালিকা দীর্ঘ হতে বাধ্য।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন