প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চাটখিলে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যুবদল নেতার মৃত্যু নোয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয় সমাজে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির যুব সংগঠন যুবদলের সাবেক নেতা মোরশেদ আলম শিব্বির। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। একটি জাতীয় দিবসের স্মরণীয় অনুষ্ঠানে এমন আকস্মিক মৃত্যু উপস্থিত সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়।
মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মোরশেদ আলম শিব্বির। অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং মঞ্চের কাছেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা মনে করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে।
দ্রুত উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে চাটখিল উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত মোরশেদ আলম শিব্বিরের বয়স ছিল ৪৮ বছর। তিনি চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে প্রবাসী বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। কয়েক মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন এবং পরিবার-পরিজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। ছুটি শেষে তার আবার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েই তার জীবনাবসান ঘটে।
মোরশেদ আলম শিব্বির বদলকোট ইউনিয়নের মুরাইম গ্রামের খামারবাড়ির আবদুল হকের সন্তান। এলাকায় তিনি একজন পরিচিত ও সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যুবদলের রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার অংশগ্রহণ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তার মৃত্যুতে শুধু বিএনপি বা যুবদল নয়, গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বদলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাওলানা জি এম ওমর ফারুক জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোরশেদ আলম শিব্বির। অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “মোরশেদ ছিলেন দলের একজন ত্যাগী নেতা। তার মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
এই আকস্মিক মৃত্যু অনুষ্ঠানের পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে শোকাবহ করে তোলে। বিজয় দিবসের আনন্দঘন পরিবেশ হঠাৎ করে স্তব্ধ হয়ে যায়। অনেক নেতাকর্মী চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। অনুষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয় এবং উপস্থিত সবাই নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ায় অংশ নেন।
স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা জানান, প্রবাসে থাকার সময়ও মোরশেদ আলম শিব্বির দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রবাসী বিএনপির বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। দেশে ফিরে এসেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। বিজয় দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসে দলের আয়োজনে উপস্থিত থাকা তার রাজনৈতিক দায়িত্ববোধেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে তারা মন্তব্য করেন।
তার মৃত্যুর খবরে নোয়াখালী জেলা ও চাটখিল উপজেলার বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। কেউ কেউ তাকে একজন ভদ্র, শান্ত ও সংগঠক হিসেবে স্মরণ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সময় অনেকের শারীরিক ঝুঁকি থেকে যায়, বিশেষ করে হৃদ্রোগজনিত সমস্যা থাকলে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
মোরশেদ আলম শিব্বিরের মৃত্যু আবারও দেখিয়ে দিল, জীবন কতটা অনিশ্চিত। একটি জাতীয় দিবসের স্মরণীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে এমন আকস্মিক প্রয়াণ শুধু একটি পরিবার নয়, একটি রাজনৈতিক সংগঠনকেও শোকাহত করেছে। তার পরিবার এখন প্রিয়জন হারানোর গভীর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি ছিলেন পরিবারের অন্যতম ভরসা।
তার জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পারিবারিকভাবে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। বিএনপি ও যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই নেতার স্মরণে দোয়া মাহফিল ও শোকসভা আয়োজন করবে।