প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লাগাতার হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সংগঠন আসিয়ান (ASEAN) এবার সরব হলো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৫৮তম আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সম্মেলন শেষে ১১ জুলাই এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে সংগঠনটি ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চালানো চলমান আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানায় এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি তোলে।
গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং সর্বোপরি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “গাজার অবনতি হওয়া মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের সহিংসতা এবং ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ থেকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরুর ফলে আরও জটিল ও বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে।” আসিয়ান নেতারা আরও বলেন, “আমরা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সব ধরণের হামলার নিন্দা জানাচ্ছি, যার ফলে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বোমা হামলা ও নিষেধাজ্ঞার ফলে খাদ্য, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা এক নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে।”
এই বিবৃতিতে আসিয়ান দেশগুলো গাজা অঞ্চলে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় এবং নারী, শিশু, অসুস্থ ও বয়স্ক বন্দিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায়। একযোগে তারা জোর দিয়ে উল্লেখ করে যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক মূল্যবোধ মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।
আসিয়ান নেতারা গাজায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNRWA-এর কার্যক্রম পুনরায় জোরদার করারও আহ্বান জানান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘের এ সংস্থার ভূমিকাকে তারা ‘অপরিহার্য’ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, “সীমান্ত পারাপার, সমুদ্রপথসহ সকল চ্যানেলে দ্রুত, নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও টেকসই মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ পুনঃস্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতি কেবল প্রতীকী নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশের একজোট কণ্ঠস্বর, যা বৈশ্বিক কূটনীতিতে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেই-এর মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আসিয়ান সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট। এবার তা সাংগঠনিকভাবেও প্রকাশ পেল।
গাজা পরিস্থিতি এখন যে মাত্রায় পৌঁছেছে, তাতে আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক ন্যায়ের স্বার্থে আসিয়ান নেতাদের এই সরব অবস্থান তাই একটি বড় বার্তা হয়ে থাকবে—বিশ্ব বিবেকের উদ্দেশে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত