সর্বশেষ :
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ খাতে বরাদ্দ কমায় উদ্বেগ তামাকমুক্ত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেট: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগে গতি ফিরবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্যাথলজি সেন্টারের: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা খুলনায় গুলিতে নিহত বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিক, এলাকায় চাঞ্চল্য বাজেটে ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি, সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে জেলা কমিটি বাজেটে সংস্কার দেখছেন না নাহিদ ইসলাম দেশকে সম্মানে ফেরানোর অঙ্গীকার মঈন খানের চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ব্রিতো

হাবিবুল্লাহ বাহারে হামলা নিয়ে তীব্র অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫ বার
হাবিবুল্লাহ বাহারে হামলা নিয়ে তীব্র অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর রাজনীতিতে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া এক হামলার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী নির্বাচনী প্রচারণাকালে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে দায়ী করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হামলার পরপরই গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “মির্জা আব্বাস ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমার ওপর হামলা করিয়েছেন। আজকের এই ন্যক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হলো, তিনি এখনো সন্ত্রাসের রাজনীতি ছাড়তে পারেননি। তার বাহিনীর কর্মকাণ্ড দেশের মানুষের সামনে তার আসল চেহারা উন্মোচন করেছে।” এ সময় তিনি ঘটনাটিকে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

হামলার ঘটনার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মির্জা আব্বাসকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছেন তিনি। তার ভাষায়, “এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে মানানসই নয়।”

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী তার বক্তব্যে এই ঘটনার বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেন। তিনি বলেন, “আমি এই হামলার বিচার দেশের সাধারণ মানুষের কাছে দিলাম। ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমেই এই গুণ্ডামির জবাব দেবেন। ঢাকা-৮ আসনের সচেতন জনগণ ‘শাপলা কলি’ মার্কায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিজেদের রায় জানিয়ে দেবেন।” তার এই বক্তব্যে নির্বাচনী লড়াইয়ের ভাষা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের পিঠা উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সংক্ষিপ্ত প্রচারণা চলাকালে হঠাৎ করে তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে তাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামিল আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ছাত্র নামধারী কিছু ব্যক্তি, যারা মূলত মির্জা আব্বাসের অনুসারী, তারা শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে এসে এই হামলা চালায়। তার দাবি অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে এই কর্মসূচিকে ভণ্ডুল করতেই এ ধরনের হামলা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজেও ঘটনার কিছু অংশ দেখা যায়। ভিডিওতে এক পক্ষকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে এবং অন্য পক্ষকে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

ঘটনার পরপরই কলেজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণাকালে সহিংসতার অভিযোগ নতুন কিছু নয় হলেও, প্রকাশ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক না কেন, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযোগের পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই বিষয়টি থেমে না থেকে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। এতে করে নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে এবং ভোটারদের আস্থা বজায় থাকবে।

ঢাকা-৮ আসন বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতাও বরাবরের মতো এবারও তীব্র। এই প্রেক্ষাপটে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলার অভিযোগ হিসেবেই নয়, বরং সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা ও সহনশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রচারণার মাঠ গরম হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দায়িত্ব বর্তায়, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কী ধরনের তদন্ত ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটির দিকেই এখন সবার নজর। কারণ এই ঘটনার পরিণতি শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী সংস্কৃতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত