সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

আইসিই তহবিলে অচলাবস্থা: মিনিয়াপোলিসে হত্যাকাণ্ডে মার্কিন রাজনীতিতে ঝড়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৭ বার
আইসিই তহবিলে অচলাবস্থা: মিনিয়াপোলিসে হত্যাকাণ্ডে মার্কিন রাজনীতিতে ঝড়

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতি ঘিরে যে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল, তা এবার আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই এজেন্টদের হাতে পরপর দুইজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন নতুন করে জ্বলে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে চলমান বাজেট আলোচনায়। আইসিই ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য প্রস্তাবিত অর্থায়ন বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতারা, যা দেশটির রাজনীতিতে নতুন এক অচলাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মিনিয়াপোলিসে সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে গত শনিবার, ২৪ জানুয়ারি। অভিযোগ রয়েছে, আইসিই-এর এক এজেন্ট গুলি করে হত্যা করেন মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেটিকে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হওয়া অভিবাসীবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে মিনিয়াপোলিসে আইসিই-এর হাতে দ্বিতীয় প্রাণহানির ঘটনা। এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি অভিযানের সময় রেনি নিকোল ম্যাকলিন গুড নামে ৩৭ বছর বয়সী এক মার্কিন নারীকে তার গাড়ির ভেতর গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি কোনোভাবেই অভিবাসী ছিলেন না; জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগও ছিল না।

এই ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই নারীকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করে, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক অধিকার কর্মী এবং সাধারণ মানুষ একযোগে এই বক্তব্যের নিন্দা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মিনিয়াপোলিস। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আইসিই-এর কার্যক্রম বন্ধ এবং মিনেসোটা থেকে আইসিই এজেন্টদের প্রত্যাহারের দাবি জানাতে থাকেন। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই অ্যালেক্স প্রেটির হত্যাকাণ্ড নতুন করে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে।

পরপর দুইজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পর ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকরা আরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। কংগ্রেসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও আইসিই-এর জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বিল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। রিপাবলিকানরা যেখানে দ্রুত বাজেট পাস করানোর চেষ্টা করছেন, সেখানে ডেমোক্র্যাটরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—আইসিই-এর জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন থাকলে তারা কোনোভাবেই এই বিল সমর্থন করবেন না।

সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার রোববার, ২৫ জানুয়ারি, এক ঘোষণায় বলেন, আইসিই-এর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সংস্থাটির জন্য বরাদ্দ বাড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত হবে। তার ভাষায়, অভিবাসন এজেন্টদের কার্যক্রমে কঠোর জবাবদিহি, সংস্কার এবং মানবাধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা না থাকলে অর্থায়নের প্রশ্নই ওঠে না। ডেমোক্র্যাটদের মতে, আইসিই-এর বর্তমান কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও নাগরিক অধিকারবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, সিনেটে বিলটি আটকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভোট ডেমোক্র্যাটদের হাতে রয়েছে। অন্তত ৪৪ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও আইসিই-এর অর্থায়নের বিপক্ষে ভোট দেবেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংখ্যাই বিলটি আটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫৩। বাজেট পাস করাতে তাদের অন্তত ৬০টি ভোট প্রয়োজন, অর্থাৎ কয়েকজন ডেমোক্র্যাটের সমর্থন ছাড়া এই বিল পাস হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ অনড় থাকায় রিপাবলিকানরা প্রয়োজনীয় ভোট জোগাড়ে ব্যর্থ হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে আংশিকভাবে সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। যদি দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না যায়, তাহলে সরকারি অনুদান বিল বিলম্বিত হতে পারে অথবা সাময়িকভাবে কিছু সরকারি কার্যক্রম স্থগিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ডেমোক্র্যাটরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা ডিএইচএস-এর কাঠামোগত সংস্কার, আইসিই-এর ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আপস করতে রাজি নন।

এদিকে মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ থামার কোনো লক্ষণ নেই। প্রায় প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। সোমবার এক সমাবেশে মিনেসোটা রাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে তার রাজ্য থেকে আইসিই এজেন্টদের প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিনেসোটার মানুষ নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়, ভয় আর সহিংসতা নয়।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মিনেসোটা রাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে-এর উচিত রাজ্যের কারাগারে থাকা সব বন্দিকে বহিষ্কারের জন্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া। তার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং সমালোচকদের মতে, এটি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

সব মিলিয়ে মিনিয়াপোলিসের হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় কোনো ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক বিভাজনের গভীর সংকটকে সামনে এনে দিয়েছে। আইসিই-এর ভূমিকা ও জবাবদিহি নিয়ে যে প্রশ্নগুলো দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল, সেগুলো এখন কংগ্রেসের বাজেট আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এই সংকট কোন পথে গড়াবে, সরকার ও কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতা আদৌ সম্ভব হবে কি না—সেদিকে তাকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত