প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি নৃশংসতা ও হৃদয়বিদারকতা দিয়ে আলোড়িত করেছে জনমনে। সন্দেহভাজন হিসেবে যে ব্যক্তিকে এই ঘটনায় দায়ী করা হচ্ছে, তিনি এখনো পলাতক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, শিশুটিকে শ্বাসরোধ ও ঘাড় মটকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসান বশির সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ১২ জুলাই ‘আল-আমিন’ নামে এক ব্যক্তি আনোয়ারা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে ওঠেন। পরদিন ১৩ জুলাই বিকেলে তিনি হোটেল রুমে একটি শিশুকে রেখে বাইরে বেরিয়ে যান। কিন্তু রাতে আর ফিরে আসেননি।
পরবর্তী দিন দুপুর ১১টার দিকে হোটেল কর্তৃপক্ষ রুমে প্রবেশ করে শিশুটির মরদেহ দেখতে পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হোটেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এসআই হাসান বশির জানান, মরদেহটি বিছানায় পড়ে ছিল এবং শিশুটির চোখ ও পায়ুপথে ছিল স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুটিকে ঘাড় মটকে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও তার দেহে নির্যাতনের আলামত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে।”
পুলিশ সূত্র জানায়, শিশুটির পরনে ছিল চেক শার্ট ও জিন্স প্যান্ট। তবে শিশুটির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তার সঙ্গে পলাতক আল-আমিনের সম্পর্ক নিয়েও তদন্ত চলছে।
আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাতে পুলিশ আরও জানিয়েছে, আল-আমিন নামের ওই ব্যক্তি আগেও একাধিকবার এই হোটেলে অবস্থান করেছিলেন এবং হোটেলটির সঙ্গে তার একটি নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি দল মাঠে কাজ করছে।
এদিকে এই ঘটনার পর হোটেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি, পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এত বড় একটি অপরাধ কীভাবে ঘটে গেল—তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, অথবা শিশুটিকে আগে থেকেই লক্ষ্য করে হোটেলে আনা হয়েছিল কি না—সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
এমন এক নির্মম ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে এবং দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।
পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, শিশুটির হত্যার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। রাজধানীতে শিশু নির্যাতন ও হত্যার এমন ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—নিরাপত্তার শৃঙ্খলা আদৌ কতটা কার্যকর?