প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা আপিল বিভাগ বাতিল করেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে মুন্সী এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ফলে এই আসনে বিএনপি বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী থাকছেন না।
এ অবস্থায় আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বিএনপি প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে ও কোনো বিদ্রোহী মনোনয়ন না নেওয়ায় নির্বাচনের আগেই হাসনাত আবদুল্লাহ বিজয়ের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জানা গেছে, ২১ জানুয়ারি উচ্চ আদালত মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের বিপরীতে করা রিট খারিজ করে। এরপর তার লিভ টু আপিলও আজ (১ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগ বাতিল করেছে। এই প্রক্রিয়ার ফলে আসনটিতে কার্যত শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় হাসনাত আবদুল্লাহকে ফাঁকা মাঠে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সুযোগ মিলেছে।
এর আগে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনিও এবার মনোনয়ন গ্রহণ করেননি। এতে করে বিএনপির পক্ষ থেকে আসনে আর কোনো প্রার্থী নেই।
নির্বাচনী মাঠে বর্তমানে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন (ট্রাক), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ইরফানুল হক সরকার (আপেল), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (দেওয়াল ঘড়ি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুল করিম (হাতপাখা)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় দলের অনুপস্থিতি ও বিএনপির প্রার্থীর বাতিলের ফলে হাসনাতের বিজয় আশা বেড়ে গেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক যোগ্যতা তাকে এই মুহূর্তে এক শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর অনুপস্থিতি ও অন্যান্য ছোট দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনামূলক দুর্বল অবস্থার কারণে আসনটি হাসনাতের জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে।
এই নির্বাচনে ভোটারদেরও মনোভাব নির্ধারণে বিএনপি প্রার্থীর অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোট গ্রহণের সময় কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি না ঘটে, হাসনাত আবদুল্লাহ বড় ব্যবধানে জয়লাভ করতে পারেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের এই প্রার্থিতা বাতিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনগণও এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করছেন। অনেকেই বলছেন, বড় দল না থাকায় ভোটের ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দের প্রভাব বাড়ছে এবং এতে স্থানীয় নেতৃত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে।
নির্বাচনের আগের এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিনে কিভাবে প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরেই। তবে বর্তমানে কার্যত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতি হাসনাত আবদুল্লাহর জয় নিশ্চিতের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে, যা দলের সমর্থক ও এলাকার সাধারণ মানুষ উভয়েই স্বাগত জানিয়েছেন।