প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সৌদি প্রো লিগের শীর্ষ ক্লাব আল হিলালকে এশিয়ার ‘রিয়াল মাদ্রিদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফরাসি তারকা করিম বেনজেমা। নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে আল হিলালের হয়ে শিরোপা জয়ই তার প্রধান লক্ষ্য।
গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে আল ইত্তিহাদ ছেড়ে সৌদি প্রো লিগের বর্তমান শীর্ষ দল আল হিলালে যোগ দেন ২০২২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড। জুনের পর আল ইত্তিহাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আল হিলালকেই বেছে নেন। এই দলবদল ঘিরে সৌদি ফুটবলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ক্লাবের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনজেমা বলেন, আল হিলালে এসে তিনি দারুণ অনুভব করছেন। প্রথম অনুশীলনের অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন ক্লাব নিয়ে আশাবাদী করে তুলেছে। কোচিং স্টাফ ও সতীর্থদের সঙ্গে কাজ করে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এখানে তিনি একটি বড় প্রকল্পের অংশ হতে যাচ্ছেন। তার ভাষায়, এই ক্লাবে জয়ের মানসিকতা খুব স্পষ্ট, যা তাকে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
আল হিলালের ইতিহাস ও ধারাবাহিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বেনজেমা বলেন, এই ক্লাব শুধু সৌদি আরবেই নয়, পুরো এশিয়ায় একটি শক্তিশালী নাম। অসংখ্য শিরোপা জয়, বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী এবং প্রতিটি ম্যাচ জয়ের মানসিকতা—সব মিলিয়ে আল হিলালকে তার কাছে এশিয়ার রিয়াল মাদ্রিদের মতোই মনে হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন, বড় ক্লাব বলতে কী বোঝায়, আর আল হিলালের মধ্যেই তিনি সেই বৈশিষ্ট্যগুলো দেখছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে খেলার সময় আল হিলালের বিপক্ষে মাঠে নামার স্মৃতিও স্মরণ করেন বেনজেমা। তিনি জানান, ওই ম্যাচগুলো কখনোই সহজ ছিল না। আল হিলাল সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছে এবং শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। সেই দলেই এখন খেলতে পারছেন বলে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আল ইত্তিহাদের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিতে সম্মানজনক শর্ত না থাকায় হতাশ হয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এমনকি সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রস্তাব কার্যত তাকে কম সুবিধায় খেলতে বাধ্য করত বলেও আলোচনা রয়েছে। এসব কারণেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন তিনি।
ইউরোপের কয়েকটি ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেলেও শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন বেনজেমা। এর পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে তার ইমেজ রাইটস চুক্তি, যার মেয়াদ রয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। এই চুক্তি তাকে শুধু মাঠের ভেতরে নয়, মাঠের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।
পিআইএফ বা সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড পরিচালিত এই দলবদল সৌদি ফুটবলের ভেতরে নতুন উত্তেজনাও তৈরি করেছে। বিশেষ করে আল নাসরের অধিনায়ক ও বেনজেমার সাবেক সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অসন্তোষ নিয়ে আলোচনা চলছে। রোনালদোর অভিযোগ, পিআইএফ আল নাসরের তুলনায় আল হিলালকে বেশি সুবিধা দিচ্ছে। এমনকি এই অসন্তোষের জেরে এক ম্যাচে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে।
এই পটভূমিতে বেনজেমা নিজের লক্ষ্য একদম পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার মানসিকতা সবাই জানে—তিনি সবসময় জয়ের জন্য খেলেন। আল হিলালের হয়ে মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দেবেন, দলকে সাহায্য করবেন এবং শিরোপা জয়ের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেবেন। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রফি জেতা, সেটাই তার ক্যারিয়ারের চালিকাশক্তি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২৫টি শিরোপা জিতেছেন বেনজেমা। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক লা লিগা, কোপা দেল রে এবং পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। সেই অভিজ্ঞতা ও মানসিকতা নিয়েই এবার তিনি আল হিলালের জার্সিতে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে ১৪ ম্যাচে ৮ গোল করা এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের আল হিলাল অভিষেক হতে পারে বৃহস্পতিবার, আল ওখদুদের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে। সৌদি ফুটবলপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন—এশিয়ার ‘রিয়াল মাদ্রিদ’ খ্যাত আল হিলালের জার্সিতে করিম বেনজেমা কতটা আলো ছড়াতে পারেন, আর কত দ্রুত তিনি নতুন ক্লাবকে শিরোপার পথে এগিয়ে নিতে পারেন।