কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে যাচ্ছেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭ বার
মার্ক কার্নি ভারত সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সপ্তাহে ভারতের সফরে যাচ্ছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অংশীদারিত্ব জোরদার করাই তার এই সফরের মূল লক্ষ্য। এটি কার্নির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রথম সফর। ভারতের পর তিনি অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সফর করবেন। তার কূটনৈতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে কার্নি ২৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে পৌঁছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়টি আলোচনার মূল অঙ্গ হবে।

কার্নি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পরও পূর্বের কাঠামোয় পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার আশা বাস্তবসম্মত নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখে তিনি প্রধান এশীয় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে উদ্যোগী হয়েছেন। এর আগে গত মাসে তিনি বেইজিং সফর করে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সময় ভারত-কানাডা সম্পর্ক কিছুটা অবনতি হয়েছিল। তবে মার্ক কার্নি এই অবস্থান থেকে সরে এসে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্নির এই সফর কানাডার বহির্বিশ্ব নীতি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এক বিবৃতিতে কার্নি জানান, “আমরা এমন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছি যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। বিদেশে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে দেশের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ—বিশেষ করে কানাডীয় গাড়ি, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও স্টিলের ওপর—দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। তাই কানাডার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে মার্কিন-বহির্ভূত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ অপরিহার্য।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, কার্নির ভারত সফর শুধু বাণিজ্যিক নয়, এটি কৌশলগত এবং রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে। কানাডা ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কার্নি ভারতের বিভিন্ন শিল্প ও বিনিয়োগ ক্ষেত্র পরিদর্শন করবেন এবং নতুন অংশীদারিত্ব স্থাপনের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।

এছাড়া, কার্নি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার এই সময়ে কানাডা এমন উদ্যোগ গ্রহণ করছে যা দেশের নিয়ন্ত্রণে। বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও কানাডা নতুন কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের বহির্বিশ্ব নীতি কানাডার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

মার্ক কার্নির ভারত সফর কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারিত্ব, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার প্রভাব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সফর কানাডা ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত