রাবি ক্যাম্পাসে খোলা আকাশে ঐক্যের ইফতার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ বার
রাবি ক্যাম্পাস ইফতার আয়োজন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রমজানের পবিত্র সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির এক অনন্য মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও খোলা মাঠে খোলা আকাশের নিচে আয়োজন করা ইফতার মাহফিল এখন রাবির ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের অংশে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলের সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে নীরব ক্যাম্পাস ধীরে ধীরে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের সঙ্গে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ঘাসের ওপর কাগজ বা দস্তরখানা বিছিয়ে ইফতারের প্রস্তুতি শুরু করে। খেজুর, ছোলা-মুড়ি, পিঁয়াজু এবং শরবতের সঙ্গে বাহারি ফলের আয়োজন প্রতিটি আসরকে রঙিন করে তোলে।

ক্যাম্পাসের খোলা আকাশের নিচে এ ইফতার কেবল খাদ্যের তৃপ্তি নয়, বরং বন্ধুত্ব, পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং সামাজিক আড্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বড় ভাই, ছোট ভাই, বর্তমান ও প্রাক্তন সবাই মিলেমিশে একই বৃত্তে বসে ইফতার উপভোগ করেন। শুধু মুসলিম শিক্ষার্থী নয়, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী বন্ধুরাও এতে অংশ নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ব্যাচ, জেলা সমিতি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বড় পরিসরে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এ বছরও রমজানের অর্ধেক সময়ে ক্লাস ও পরীক্ষা চালু থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকেই হলে বা মেসে অবস্থান করছেন। পরিবারের সঙ্গে ইফতারের ঐতিহ্যবাহী অনুভূতি মিস করলেও বন্ধুদের সঙ্গে যৌথ আয়োজনের আনন্দ সেটি অনেকটা পূরণ করে। মায়ের হাতে তৈরি ইফতারের স্বাদ এখানে না থাকলেও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার আনন্দ শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। ক্যাম্পাসের বড় মাঠ, হলের ছাদ ও বিভিন্ন বিভাগের সেমিনার কক্ষে ছড়িয়ে থাকা এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণকে উৎসবমুখর করে তোলে।

ইফতারের কিছু মুহূর্ত আগে মাঠে নেমে আসে নীরবতা। সকলেই তার সামনে সাজানো ইফতারি নিয়ে মোনাজাতের জন্য অপেক্ষা করেন। আজানের ধ্বনি শোনার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর ও শরবত মুখে প্রবাহিত হয়। এখানে ইফতার কেবল ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং ভালোবাসার প্রতিফলন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম হায়দার বলেন, হলে বা মেসের চার দেয়ালের মধ্যে ইফতার করা স্বাভাবিক হলেও খোলা আকাশের নিচে ঘাসে বসে বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে এ আয়োজনের অনুভূতি ভিন্ন। এখানে তারা শুধু ইফতার করেন না, সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে একে অপরের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। এই খোলা মাঠ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে নেই কোনো ভেদাভেদ, আছে শুধু একতা ও ভ্রাতৃত্বের চিরন্তন নিদর্শন।

সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থী তাপস রায় জানান, ভিন্ন ধর্মের হলেও মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেওয়া তার জন্য আনন্দ ও সম্মানের বিষয়। রমজান মুসলমানদের পবিত্র মাস হলেও এ আয়োজন বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক নিদর্শন হিসেবে তার কাছে গৃহীত হয়। আজানের সঙ্গে খেজুর গ্রহণের মুহূর্তে তিনি অনুভব করেন, ধর্মের ভেদাভেদ অপ্রাসঙ্গিক, হৃদয়ের বন্ধনই প্রধান।

রাবি ক্যাম্পাসের খোলা আকাশের নিচে এ ইফতার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সংহতি ও মানবিক বন্ধনকে জোরদার করছে। প্রতিটি ইফতার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দিচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত