প্রকাশ: ১৭ জুলাই ‘ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সুনামগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-র সরকারি গাড়িতে এক আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাওয়ায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জোর প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি সম্পদ ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় জনতা ও নাগরিক সমাজ।
গতকাল বুধবার দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ এলাকায় দেখা যায়, ছাতক উপজেলার আলোচিত ও বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শংকর কুমার দাস এলজিইডির একটি সরকারি গাড়িতে চড়ে আসছেন। গাড়িটি ছিল সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনের দাপ্তরিক ব্যবহারের গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শংকর দাস গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যান এবং সেখানে থেকে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিষয়টি সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। অনেকে বলছেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষণার মুখে, অথচ তাদের নেতারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন—এটা কি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা?”
প্রসঙ্গত, শংকর কুমার দাস এর আগে ছাতক-দোয়ারাবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ক্ষমতার সময় তিনি বিরোধী মতের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগকে উসকে দিয়ে সহিংসতা বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। ‘জুলাই বিপ্লব’-এর পর তিনি আত্মগোপনে থাকলেও, এখন আবার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় অনেকের সন্দেহ—প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তিনি পুরনো অবস্থানে ফিরে আসছেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমরা তাকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, ব্যবসায়ী হিসেবে গাড়িতে তুলেছি। এখানে তার দলীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ নয়।” কিন্তু এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেকেই। তাদের মতে, “ব্যবসায়ীর আড়ালে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যা প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বকেই প্রমাণ করে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দোয়ারাবাজার শাখার সদস্য সচিব সোহেল মিয়া বলেন, “শংকর বাবু অতীতে দলীয় পরিচয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, আবার তিনি এখন সরকারি গাড়িতে ঘুরছেন—এটা জনগণের চোখে প্রশাসনের মুখোশ খুলে দিয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ নিজেও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। তার কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা নিয়মিত যাতায়াত করলেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকজন প্রায়ই উপেক্ষিত হন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, একটি সরকারি দপ্তর কেমন করে দলীয় রাজনৈতিক ক্যাম্পে পরিণত হয়, তা এখন আর আড়ালের বিষয় নয়। প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসন কি দলনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক প্রভুদের সেবায় নিয়োজিত?
এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সোচ্চার হচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন, যারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, “প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের ঘটনাগুলোতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, নয়তো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।”
একটি বাংলাদেশ অনলাইন