প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে শিশুদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-তে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই সম্মেলনটি আয়োজিত হয় মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প-এর আমন্ত্রণে, যা শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়ন নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সম্ভাবনা উন্নয়ন—এই চারটি প্রধান বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনাগুলো পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান তার বক্তব্যে দেশের শিশুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক দায়িত্ব, যা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল হোয়াইট হাউস-এ আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা। সেখানে উপস্থিত হয়ে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প নিজ হাতে অতিথিদের স্বাগত জানান। তার স্বাগত বক্তব্যে তিনি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী নানা সংকটের মধ্যেও শিশুদের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
এই আয়োজনে ডা. জুবাইদা রহমান ও মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যা ছিল আন্তরিক ও ফলপ্রসূ। আলোচনায় তারা শিশুদের কল্যাণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হন। ডা. জুবাইদা রহমান এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজনের জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি অন্যান্য দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনেও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ডা. জুবাইদা রহমান। সেখানে তিনি বাংলাদেশের শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ তুলে ধরেন। বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন, পুষ্টি কার্যক্রম এবং প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার—এসব ক্ষেত্রের সফলতা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনেক দেশই বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে।
সম্মেলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে প্রদর্শনী। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয় এবং শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন করে। ডা. জুবাইদা রহমান ও তার প্রতিনিধিদল এই প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এই সফরে ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মোর্শেদ হাসান খান, অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। তাদের উপস্থিতি সফরের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং বিভিন্ন খাতে অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে সহায়ক হয়।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অংশ নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান আবারও শিশুদের কল্যাণে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শিশুদের উন্নয়ন একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব এবং এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস থেকে ডা. জুবাইদা রহমানের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, যেখানে তিনি বাংলাদেশের অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী শিশুদের উন্নয়নে অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি এবং বাংলাদেশ এই প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায়।
সমাপনী দিনে আয়োজিত গ্রুপ ফটোসেশন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হয়। এই আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সভা নয়, বরং এটি ছিল একটি বৈশ্বিক সংলাপের ক্ষেত্র, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সব মিলিয়ে, এই সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরেছে। শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের মাধ্যমে দেশটি নতুন করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য আরও উন্নত সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা যায়।