প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার ২৬তম দিনে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রভাব ফেলছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের যৌথ হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে বিভিন্ন হামলা চালাচ্ছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই তেলের বিশ্ববাজারে প্রতিফলিত হয়েছে, যার কারণে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পএর জনসমর্থনের ওপর। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন।
রয়টার্স এবং ইপসোসের সম্প্রতি পরিচালিত একটি জরিপে প্রকাশ, মাত্র ৩৬ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্টের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এটি ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে রেকর্ডভাবে হ্রাস। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় জন-অসন্তোষের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমেছে। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে, তার অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবস্থাপনাকে সমর্থন করেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ, যা ট্রাম্পের আগের এবং বর্তমান মেয়াদের রেকর্ড অনুযায়ী সর্বনিম্ন।
জরিপ অনুযায়ী, ইরান সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ অভিযানও জনমতকে প্রভাবিত করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক এবং সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিনি, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কম। অপরপক্ষে, হামলার বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৬১ শতাংশ মানুষ, যা আগের সপ্তাহে ৫৯ শতাংশ ছিল। এ পরিস্থিতি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান এখনও শক্তিশালী হলেও, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা এবং অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ বলেন, তারা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নয়। গত সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ২৭ শতাংশ। এর ফলে দেখা যাচ্ছে যে, পার্টি অভ্যন্তরীণ সমর্থন থাকলেও সাধারণ জনগণের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তায় হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অস্থিরতা মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্পের আর্থিক নীতি এবং উচ্চমূল্যের পেট্রোল নিয়ে অসন্তোষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিকদের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ ধরনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রভাব এবং রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
অর্থনীতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিও জরিপে ধরা পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এই সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের পারফরম্যান্সকে যথাযথ মনে করছে না। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় এটি অন্যতম প্রধান ইস্যু হলেও, বর্তমানে জনমত ট্রাম্পের বিপরীতে ঝুঁকেছে। ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্বব্যাপী তেলের দর বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব পড়ছে। এসব কারণে প্রেসিডেন্টের নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি অসন্তোষ ও সমালোচনা বেড়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত থাকলেও জনমতের ক্ষয়-ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মার্কিন অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, যা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় থাকা সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।