কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৮ বার
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। যদিও এ হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি, তবুও এ ঘটনাকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছে।

বুধবার একটি ইরানি ড্রোন বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে জানা গেছে। যদিও হামলার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এখানে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সক্রিয় ভূমিকা সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুতিরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

হুতিদের দাবি, তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। অনেক শিপিং কোম্পানি নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লোহিত সাগরের পরিবর্তে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিতে রয়্যাল নেভির একটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়। এতে বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ধীরে ধীরে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই সময় তারা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে, যা ইতোমধ্যে একটি মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় আকাশ ও সমুদ্রপথে হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনাটি একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে এবং এর প্রভাব বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com