সর্বশেষ :
টেইলর সুইফটের প্রত্যাবর্তন: টয় স্টোরির গানে নস্টালজিক সুর ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ১০ ইসলামের দৃষ্টিতে জাহান্নামিদের প্রধান তিনটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বললেন ট্রাম্প, লেবানন ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ শিশু রামিসা হত্যা: আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি বাবার ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল মতিঝিল হজ শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা, এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু ইথিওপিয়ার নির্বাচনে জয়ী হতে চলেছে আবি আহমেদের দল হিলি স্থলবন্দরের ফোরলেন সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর আশ্বাস এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময় বাড়ল

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোটে ইউক্রেনের নতুন কৌশল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫ বার
ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা চুক্তি

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতার মধ্যেও কৌশলগতভাবে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে এগোচ্ছে ইউক্রেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে মনোযোগ দিয়েছে কিয়েভ। বিশেষ করে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ওমান, কুয়েত ও বাহরাইনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা। চলমান সংঘাতে ইউক্রেন যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, সেটিকে এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিস্তৃত করতে চায় দেশটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সফর করেন। এই সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সামনে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ইরানের তৈরি দূরপাল্লার ‘শাহেদ’ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন কীভাবে সফল হয়েছে, সেটিই ছিল আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

এই সফরের ফলাফল হিসেবে ইতিমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউক্রেন। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউক্রেন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এবং ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। এই উদ্যোগ শুধু সামরিক সহযোগিতাই নয়, বরং প্রযুক্তি বিনিময় ও কৌশলগত সমন্বয়ের নতুন দিক উন্মোচন করছে।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘শাহেদ’ ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, সঠিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিক ড্রোন হামলা প্রতিহত করা সম্ভব। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর জন্য উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুক্রবার দেওয়া আরেক বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, কুয়েত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ওমানের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিগুলো প্রায় ১০ বছরের জন্য কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সহযোগিতার ইঙ্গিত বহন করে।

এই উদ্যোগ শুধু সামরিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জ্বালানি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল ও ডিজেল সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে করে ইউক্রেনের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি নতুন ধারা তৈরি করছে। সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতায় অভ্যস্ত ইউক্রেন এবার মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঝুঁকে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করছে। এতে করে দেশটি তার কৌশলগত পরিসর আরও বিস্তৃত করতে পারবে।

একই সঙ্গে এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তারা ইউক্রেনের যুদ্ধ অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে পারবে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা পারস্পরিক উপকার বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই নতুন জোট আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইউক্রেনের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—এই দুইয়ের সমন্বয় ভবিষ্যতে নতুন ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইউক্রেনের এই উদ্যোগ শুধু সামরিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ই নয়, বরং একটি বিস্তৃত কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে দেশটি তার নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে এই সহযোগিতা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে বাস্তবায়নের ওপর এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত