পাকিস্তান সুপার লিগে জালমির জয়ে উজ্জ্বল নাহিদ-শরিফুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ বার
পাকিস্তান সুপার লিগে জালমির জয়ে উজ্জ্বল নাহিদ-শরিফুল

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তান সুপার লিগে টানা ভালো পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখে আবারও আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের দুই পেসার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম। পেশোয়ার জালমির হয়ে মুলতান সুলতান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা বোলিংয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন। এই জয়ের মাধ্যমে পেশোয়ার জালমি টুর্নামেন্টের শীর্ষস্থান আরও শক্তভাবে ধরে রাখে।

সোমবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে পেশোয়ার জালমি নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে। দলের ইনিংসে সবচেয়ে আলোচনায় ছিলেন কুশল মেন্ডিস, যিনি ৪০ বলে ৬৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা যায়, যা দলের বড় স্কোর গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া মোহাম্মদ হারিস মাত্র ১৭ বলে ৩৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে রানের গতি আরও বাড়িয়ে দেন।

জবাবে মুলতান সুলতান্স ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই চাপের মধ্যে পড়ে যায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়। দলটির হয়ে শান মাসুদ ৩৫ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্য ব্যাটসম্যানরা বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি। ফলে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৭২ রানে থেমে যায় মুলতান।

পেশোয়ার জালমির বোলাররা শুরু থেকেই পরিকল্পিত বোলিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। বিশেষ করে স্পিনার সুফিয়ান মুকিম ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে আবির্ভূত হন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং মুলতানের ব্যাটিং লাইনআপকে বড় জুটি গড়তে দেয়নি।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের দুই পেসার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। গতি ও নিয়ন্ত্রণে দুর্দান্ত নাহিদ রানা ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। বিশেষ করে ডেথ ওভারে তার বোলিং ছিল অত্যন্ত কার্যকর, যেখানে তিনি প্রায় ১৪৭ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলেন। শেষ দুই ওভারে তিনি মাত্র ৮ রান দেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

অন্যদিকে শরিফুল ইসলাম উইকেট না পেলেও অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান খরচ করেন এবং রান আটকে রাখার মাধ্যমে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার লাইন ও লেন্থের ধারাবাহিকতা মুলতানের ব্যাটসম্যানদের বড় শট খেলতে বাধা দেয়।

চলতি আসরে এখন পর্যন্ত নাহিদ রানা চার ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে দারুণ ফর্মে রয়েছেন। তার ইকোনমি রেটও উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা তাকে দলের অন্যতম ভরসার বোলারে পরিণত করেছে। অন্যদিকে শরিফুল ইসলাম পাঁচ ম্যাচে ২ উইকেট পেলেও তার ইকোনমি রেট ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং দলের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ম্যাচ শেষে পেশোয়ার জালমি টানা অপরাজিত থেকে ছয় ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে মুলতান সুলতান্স সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে শীর্ষ দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের দুই পেসারের এই পারফরম্যান্স জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আসন্ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে তাদের ফর্মে থাকা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সিরিজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই দুই পেসার আজই দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাদের আরও একটি ম্যাচ খেলানোর জন্য পেশোয়ার জালমি এবং সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের অনাপত্তিপত্রের মেয়াদ একদিন বাড়িয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা শেষ ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক লিগে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তরুণ বোলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য শক্তিশালী পেস আক্রমণ গঠনে সহায়ক হয়। বিশেষ করে নাহিদ রানা তার গতির মাধ্যমে এবং শরিফুল ইসলাম তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে ভিন্নধর্মী ভারসাম্য তৈরি করছেন।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচ শুধু পেশোয়ার জালমির জন্য জয় নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি ইতিবাচক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই তরুণ পেসারের এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত