ঢাবিতে হামলা-সংঘর্ষে তদন্ত কমিটি, উত্তেজনা প্রশমনে আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬২ বার
ঢাবিতে হামলা-সংঘর্ষে তদন্ত কমিটি, উত্তেজনা প্রশমনে আহ্বান

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর অন্যতম বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শাহবাগ এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্তে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ী ব্যক্তি এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল-এর এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-এ তার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে অশালীনতা ও আপত্তিকর বক্তব্যের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দ্রুতই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নেয়।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন জাওয়াদ ইবনে ফরিদ এবং আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোসাদ্দেক খান। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এরই মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয় শাহবাগ এলাকায়। ওই রাতে শাহবাগ থানা-য় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সাইবার বুলিংয়ের মামলা করতে থানায় যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত অন্য পক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে আলোচনায় আসে তারেক রহমান এবং তার কন্যা জায়মা রহমান-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্য। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা আরও বাড়ে বলে জানা গেছে।

এই সংঘর্ষের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া, ড. মো. মোসাদ্দেক খান, ড. রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম সোহাগ এবং আমজাদ হোসেন। এই কমিটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে হলের ভেতরে দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি বা উসকানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে তা আইনসম্মত উপায়ে সমাধান করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসচেতন ব্যবহার এবং রাজনৈতিক বিভাজন ক্যাম্পাসের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতভিন্নতা থাকাটা স্বাভাবিক, তবে তা যেন কখনো সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। তারা মনে করেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ নয়, বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। এখন সবার প্রত্যাশা, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ হবে এবং এর ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত