ড. ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ড তদন্তে রিট দাখিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
ড. ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ড তদন্তে রিট দাখিল

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক নীতিমালা নিয়ে বিচারিক তদন্তের দাবি উঠেছে হাইকোর্টে। দেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর দাখিল করা একটি রিট আবেদনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাবেক সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূস-এর সময়কালে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত। রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গত ২৯ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ। পরবর্তীতে বিষয়টি বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। রিটের বিষয়ে আদালত জানায়, আগামী রবিবার এটি কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

রিটে বলা হয়েছে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ড. ইউনূস বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নিজের এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার মধ্যে আয়কর সংক্রান্ত ৩৮টি রিট ও রেফারেন্স মামলা ছিল। এসব মামলায় প্রায় ১১১ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ ছিল বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া রিটে আরও বলা হয়েছে, তার একটি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ কর দায়, প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা, মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, ডিজিটাল ওয়ালেট পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও এর বৈধতা নিয়ে রিটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

রিট আবেদনকারী আইনজীবীর মতে, রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাই কোনো ধরনের প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা গ্রহণ করা হলে তা আইনের শাসনের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার মৌলিক নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

রিটে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাবেক সরকারের সময় গৃহীত আর্থিক সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট দুই আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীর মতে, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর আইনি ভিত্তি যাচাই করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রিট বিচার বিভাগের নজরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে আসতে পারে, তবে এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপিত প্রমাণের ওপর। তারা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনা একটি সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে রাজনৈতিক ও আইনি দিক আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

এদিকে রিটকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। ক্ষুদ্রঋণ ধারণার মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছেন। তবে তার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সময় বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

বর্তমান রিট আবেদন সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। এখন নজর রয়েছে হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে, যেখানে এই অভিযোগগুলোর আইনগত ভিত্তি এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে এই রিট শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা, ক্ষমতার ব্যবহার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। এর চূড়ান্ত ফলাফল ভবিষ্যতের প্রশাসনিক চর্চার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত