মঙ্গলবারের বৈদেশিক মুদ্রার নতুন দর প্রকাশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৭ বার
বৈদেশিক মুদ্রার নতুন দর প্রকাশ মঙ্গলবার

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে প্রবাসী আয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারও প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেনের কারণে ডলারসহ বিভিন্ন মুদ্রার বিনিময় হার অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় দর প্রকাশ করা হয়েছে, যা লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো অনুসরণ করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার চাহিদার ভিত্তিতে এসব হার প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।

বাজারে দেখা গেছে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে থাকলেও ইউরো, পাউন্ড এবং অন্যান্য শক্তিশালী মুদ্রার ক্ষেত্রে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর এই বিনিময় হার সরাসরি প্রভাব ফেলে, ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান বাজার অনুযায়ী মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২২.২৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩.২৫ টাকা। বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকায় এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ১৪০.৯৭ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১৪৫.৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক নীতি এবং বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবের কারণে ইউরোর দর প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, যা বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

ব্রিটিশ পাউন্ডের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬৩.৪৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৮.৫৩ টাকা। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পাউন্ডের গুরুত্বের কারণে এটি অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত।

এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে জাপানি ইয়েনের ক্রয়মূল্য ০.৭৭ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ০.৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম মূল্যমান হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাপানের ভূমিকা ইয়েনকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সিঙ্গাপুর ডলারের বাজারে ক্রয়মূল্য ৯৫.৩০ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৬.৮৯ টাকা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হওয়ায় এই মুদ্রার চাহিদাও স্থিতিশীল রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামের ক্রয়মূল্য ৩৩.২৭ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ৩৩.৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে সৌদি রিয়ালের ক্রয়মূল্য ৩২.৫৭ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ৩২.৮৮ টাকা। এই দুটি মুদ্রা মূলত প্রবাসী আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ৮৬.৯২ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৮.৮৯ টাকা। একইভাবে সুইস ফ্রাঁর ক্রয়মূল্য ১৫৪.৪৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১৫৮.৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ইউরোপীয় আর্থিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া চীনা ইউয়ানের ক্রয়মূল্য ১৭.৭৯ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১৮.১৫ টাকা। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায় ইউয়ানের দরও আমদানি ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে ভারতীয় রুপির ক্রয়মূল্য ১.২৮ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১.৩০ টাকা, যা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য ও পণ্য বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এই ওঠানামা মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সুদের হার এবং ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে আমদানি নির্ভর অর্থনীতির কারণে ডলারের দরের পরিবর্তন সরাসরি পণ্যমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামালের ক্ষেত্রে।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিনিময় হার নিয়মিতভাবে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ায় অনেক দেশের মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগ প্রবাহ পরিবর্তিত হচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রাবাজারেও পড়ছে।

ব্যবসায়ী মহল বলছে, বৈদেশিক মুদ্রার এই পরিবর্তন আমদানি ব্যয় ও পণ্যের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিল্প খাতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে গেলে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিফলিত হয়।

অন্যদিকে রেমিট্যান্স নির্ভর পরিবারগুলোর জন্য ডলারের দর কিছুটা বাড়লে আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি কিছু মুদ্রায় ওঠানামার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত